যে দুই উপায়ে কমতে পারে ডেঙ্গুর প্রকোপ

দ্বিতীয় দফায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি। ফলে চলতি আগস্ট মাসে আরও ভয়াবহ হতে পারে ডেঙ্গু। এবার আক্রান্তদের পাঁচ শতাংশ এ ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। কয়েক বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, আগস্ট মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হয়। তবে দুই উপায়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমতে পারে। প্রথমত, ওষুধ ছিটিয়ে এডিস মশা নিধন ও লার্ভা ধ্বংস করা, আর দ্বিতীয়ত হচ্ছে আবহাওয়ার ওপর। যদি ভারি বৃষ্টিপাত হয়, তাহলে স্বচ্ছ পানিতে জমানো এডিস মশার লার্ভাগুলো ধুয়ে যাবে।

ডেঙ্গুর এ প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত শুক্রবারও এডিস মশার কামড় থেকে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে আরও চারজনের। রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২ আগস্ট) সকালে আনোয়ার হোসেন নামে একজন রোগী মারা যান।

রাজধানীসহ সারা দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি মৌসুমে এ সংখ্যা ২১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

গত শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ হাজার ২৩৫ জন। আগস্টের দুই দিনেই ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ৪০৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ভর্তি করা রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৬৮৭ জন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী সম্প্রতি ডেঙ্গু সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশকালে বলেন, কয়েক বছরের গবেষণালব্ধ তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা খুবই জরুরি।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু সাধারণত এডিস ইজিপ্টি এবং এলবোপিকটাস- এ দুই ধরনের মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এ বছর দ্বিতীয় দফায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি। এবার আক্রান্তদের ৫ শতাংশ এ ঝুঁকিতে আছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস ইজিপ্টির মতো এডিস এলবোপিকটাস মশাও ডেঙ্গুর কারণ হতে পারে। আর এ মশাটি ঢাকার বাইরের অঞ্চলগুলোতে আছে। সুতরাং এ মশার অর্থাৎ এডিস এলবোপিকটাস যদি ঢাকা থেকে যাওয়া কোনো ডেঙ্গু রোগীকে কামড় দেয়, তবে ওই এলাকায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়তে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরে আগস্টের ২ তারিখ পর্যন্ত সারা দেশে ২১ হাজার ২৩৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৪ জন। গেল জুলাই মাসে গড়ে প্রতিদিন ৫০৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। এর আগে জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন দুজন করে হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৩৮, ফেব্রুয়ারিতে ১৮, মার্চে ১৭, এপ্রিলে ৫৮ এবং মে মাসে ১৯৩ জন, জুন মাসে ১ হাজার ৮৬৩ জন এবং জুলাই মাসে ১৫ হাজার ৬৪৩ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, ঢাকা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১০৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪০১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৬৫ জন, খুলনা বিভাগে ৬০৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪৭৪ জন, রংপুর বিভাগে ২৪১ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭৭ জন। রাজধানী ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ১৯০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ১৪৮ জন, মারা গেছেন ২৬ জন। ২০১৭ সালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৭৬৯ জন, মারা গেছেন ৮ জন। ২০১৬ সালে ভর্তি হয়েছেন ৬ হাজার ৬০ জন, মারা গেছেন ১৪ জন। ২০১৫ সালে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ১৬২ জন, মারা গেছেন ছয়জন। ২০১৪ সালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭৩ জন। কেউ মারা যাননি। ২০১৩ সালে ১ হাজার ৪৭৮ জন এবং ২০১২ সালে ১ হাজার ২৮৬ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। ২০১১ সালে ১ হাজার ৩৬২ জন ও ২০১০ সালে ৪০৯ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে যান।

আরও পড়ুন