রাজশাহীর দুর্গাপুরে করোনা আক্রান্তের হার ৫0 শতাংশ উপরে সর্বাত্মক লকডাউন চায় উপজেলাবাসী

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর দুর্গাপুরে দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এই উপজেলায় করোনা আক্রান্তের হার
শতকরা ৫০ ভাগের উপরে। যা করোনা পরীক্ষার মাধ্যমে উঠে আসছে প্রতিদিন। তবে করোনা পরীক্ষায় অনেকটাই অনীহা দেখা দিয়েছে এই উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে।

দুর্গাপুরবাসী মনে করছেন অতি দ্রুত এই উপজেলায় সর্বাত্মক লকডাউনের আওতায় আনা না হলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি দেখা দিবে। এদিকে গত প্রায় দুই সপ্তাহ থেকে দুর্গাপুর উপজেলা প্রায় প্রতিটি বাড়িতে দুই একজন শরীরে নতুন করে দেখা
দিয়েছে সর্দি-জ্বর। অনেকে এই সর্দি জ্বর নিয়ে চিকিৎসাও নিতে যাচ্ছে না হাসপাতালে। তারা স্থানীয় ফার্মেসী থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বলছেন জ্বর-সর্দি আক্রান্ত অধিকাংশ রোগী করোনায় আক্রান্ত। তারা কোন প্রকার করোনা পরীক্ষা করছেন না। এখন পযর্ন্ত এই উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১৬৮ জন।

গত ১০ জুন বৃহস্পতিবার থেকে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট পয়েন্টে মাধ্যমে করোনা
পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করা হয়। আর এই টেস্টের মাধ্যমে প্রায় ৫২ পার্সেন্ট করোনা আক্রান্ত দেখা যায়। ১০ জুন
র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট পয়েন্টে ১৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয় এর মধ্যে ১০ জনের দেহে করোনাভাইরাসের
সংক্রমন পাওয়া যায়। ১২ জুন ২৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয় এর মধ্যে ১৩ জনের দেহে করোনাভাইরাসের
সংক্রমন পাওয়া যায়। ১৩ জুন ১৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয় এর মধ্যে ৮ জনের দেহে করোনাভাইরাসের
সংক্রমন পাওয়া যায়।

সর্বশেষ ১৪ জুন সোমবার ২৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয় এর মধ্যে ১৩জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমন পাওয়া যায়। এ নিয়ে উপজেলায় করোনা পজেটিভ রোগী সংখ্যা মোট ১৬৮জন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাবুবা খাতুন বলেন, দুর্গাপুরে দিন দিন করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মানুষ কোনো প্রকার করোনা পরীক্ষা করাতেই চাচ্ছেন না। এমনকি ভর্তিকৃত রোগীদের করোনা পরীক্ষার জন্য বল হলে তারা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন। এই উপজেলায় প্রতিটি মানুষ যদি করোনা পরীক্ষা করায় তা হলে অন্তত ৮০ভাগ মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন পাওয়া যাবে।

তিনি আরো বলেন, জ্বর সর্দিতে যারা ভুগছেন তাদের শরীরে শতভাগ করোনা ভাইরাস পাওয়া যেতে পারে। এই
উপজেলায় অতি দ্রুত কঠোর লকডাউনের মাধ্যমে সবাইকে করোনা পরীক্ষার আওতায় আনা অতি জরুরী
বলেন মনে করেন তিনি।

 

 

 

আরও পড়ুন