রাসেলের ক্ষতিপূরণ শুনানি ১১ ডিসেম্বর

রাজধানীর হানিফ ফ্লাইওভারের ওপর গ্রীনলাইন পরিবহনের বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণ দিতে জারি করা রুলের ওপর শুনানির জন্য আগামী ১১ ডিসেম্বর দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম স্মৃতি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের বলেন, রিট আবেদনকারী আইনজীবী বিষয়টি উপস্থাপনের পর আদালত ১১ ডিসেম্বর রুল শুনানির জন্য দিন রেখেছেন।

২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথা কাটাকাটির জেরে গ্রীনলাইন পরিবহনের বাসচালক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাইভেটকার চালকের ওপর দিয়েই বাস চালিয়ে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারের (২৩) বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন সংরক্ষিত আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ও বর্তমানে কৃষক লীগের নবনির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী উম্মে কুলসুম স্মৃতি।

এ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১৪ মে রাসেলকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

এর মধ্যে রাসেলের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, বাস কর্তৃপক্ষ তার কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি। পরে গত ১২ মার্চ রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা দেয়ার আদেশ দিয়ে চিকিৎসার জন্য খরচও গ্রীনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে দিতে বলেছিলেন হাইকোর্ট। পরে ১০ এপ্রিল রাসেল সরকারকে পাঁচ লাখ টাকার চেক দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর বাকি ৪৫ লাখ টাকা দিতে গ্রীনলাইন কর্তৃপক্ষকে এক মাস সময় দেন হাইকোর্ট।

কিন্তু চিকিৎসার জন্য খরচ দিলেও অবশিষ্ট টাকা দেয়নি পরিবহন কর্তৃপক্ষ। এরপর ১৫ মে হাইকোর্ট ওই টাকা দিতে ২২ মে পর্যন্ত সময় দেন। কিন্তু এই সময়েও তারা কোনো যোগাযোগ করেনি। এরপর আদালত এক মাস সময় দিয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ২৫ জুন রাখেন। পরে ২৫ জুন আদালত কিস্তিতে টাকা (প্রতি মাসে ৫ লাখ) শোধের আদেশ দিয়েছিলেন।

এরপর ২৯ জুলাই আরও ৫ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করার পরবর্তী আদেশের জন্য ১৭ অক্টোবর দিন রাখেন। এর মধ্যে গ্রীনলাইন পরিবহনের মালিক আপিল বিভাগে আবেদন করেন। গত ১৩ অক্টোবর রাসেল সরকারকে টাকা (পরিশোধের অর্থ বাদে) দেয়ার আদেশ স্থগিত করে আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

ওইদিন রাসেল সরকারের আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রাসেল সরকারকে টাকা দিতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে দুই কিস্তিতে দেয়া অর্থ বাদ যাবে। এ অর্থ বাদ দেয়ার পর বাকি যা থাকবে তার ওপর হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

আরও পড়ুন