রায়পুরার চাঁনপুরে আ’লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ নিহত ১, আহত ১০

এম,লুৎফর রহমান,নরসিংদী প্রতিনিধি ঃ

নরসিংদীর রায়পুরায় দুর্গম চরাঞ্চল চাঁনপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন আ,লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়া ও যুবলীগ নেতা নাসির খানের সমর্থদের মধ্যে সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে সোনিয়া (১৩) নামে ১ স্কুলছাত্রী নিহত ও উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জের ভৈরবের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত সোনিয়া কালিকাপুর গ্রামের জালাল মিয়ার মেয়ে ও সদাগরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। শনিবার (২৮ মার্চ) রাত প্রায় ৯টায় ঢাকা মেকিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ছাত্রীর মৃত্যু ঘটে। এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কালিকাপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এসময় ৬টি বাড়িঘরে ভাঙচুরেরও ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ কালিকাপুর গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে আব্দুস সাত্তার (৩২) ও আবু সামাদের ছেলে সবুজ (২৪) আটক করেছে। রায়পুরা থানার উপ-পরিদর্শক দেব দুলাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চাঁনপুর ইউনিয়ন আ,লীগের সাধারণ সম্পাদ বাবুল মিয়া ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির মিয়ার মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরে শুক্রবার রাতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
শনিবার সকালে হঠাৎ দুইপক্ষের লোকজন টেঁটা বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘন্টা ব্যাপী চলা সংঘর্ষে এক স্কুলছাত্রীসহ দুই পক্ষের ১১জন আহত হয়। এসময় উভয় পক্ষের ছয়টি ঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আ,লীগ নেতা বাবুলের দুই সমর্থক সাত্তার ও সবুজকে আটক করে। এসময় টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আহত স্কুল ছাত্রী সোনিয়াকে স্বজনরা প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় ও পরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করেন।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত বাকিদের নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতরা হলেন, কালিকাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে শবুর মিয়া (৫০), সৈয়দ জামানের ছেলে জাকির মিয়া (৩৮), জিতু মোল্লার ছেলে ফরিদ মিয়া (৬০), জালাল মিয়া (৪০), মৃত তাহের মিয়ার স্ত্রী রুবিনা খাতুন (৬০), ছেলে হেলাল মিয়া (৩২), অন্তঃস্বত্তা পুত্রবধূ মুক্তা আক্তার ও শান্ত মিয়ার স্ত্রী আনু (৩৩), হযরত আলীর ছেলে মোগল হোসেন (৩৮), ইনু মিয়ার ছেলে মাছুম (২৫) ও বাছেদ (৩২)।
আরও পড়ুন