রোহিঙ্গাদের হাতে বাংলাদেশী পাসপোর্ট, ২ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে পাসপোর্ট করা তিন রোহিঙ্গা যুবক বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি কালে গ্রেফতারের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। এতো সহজে কিভাবে রোহিঙ্গারা পাসপোর্ট পেল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে প্রশাসন। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। ইতিমধ্যে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার দুই সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন তিন রোহিঙ্গা যুবক। এ সময় তারা পুলিশকে জানায়, দালাল ধরে নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে পাসপোর্ট করেছে। তুরস্ক যাওয়ার আশায় তারা ঢাকা যাচ্ছিলেন ভিসার আবেদন করতে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর অভিযানে তারা পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন। এতো দিন তারা কক্সবাজারের উখিয়ায় হাকিমপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছিলো।

গ্রেফতাকৃত মোহাম্মদ ইউসুফ ও মোহাম্মদ মুসার পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর। পাসপোর্টে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কাদরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নজরপুর গ্রামে ব্যবহার করা হয়। আর মোহাম্মদ আজিজের নামে পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি। সে তার স্থায়ী ঠিকানায় একই উপজেলা ও একই ইউনেয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ সেনবাগ গ্রামে ব্যবহার করে। সরেজমিন গিয়ে ওই দুইটি ঠিকানার কোন অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।

ভুয়া পাসপোর্ট তৈরিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউপি সচিব ও পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিএসবির কর্মকর্তারা জড়িত। ঘটনা তদন্তের ইতিমধ্যে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) দীপক জ্যোতি খীসাকে দায়ীত্ব দেয়া হয়েছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তদন্ত না করেই রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে ডিএসবি পুলিশের উপ- সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) আবুল কালাম আজাদ ও (এএসআই) নুরুল হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি জানতে জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। অন্য কর্মকর্তারা কথা বলতে রাজি হননি।তবে সেনবাগের কাদরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম নিবন্ধন ও নাগরিকত্ব সনদে কিছুটা মিল থাকায় সন্দেহের তীর ওই ইউনিয়নের সচিবের দিকে। তিনি দীর্ঘদিন ওই ইউনিয়নের সচিব থাকায় নানা দূর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িত বলে সরেজমিন গেলে স্থানীয়রা জানান। তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনলে রহস্য উদঘাটন হতে পারে বলে মনে করেন এলাকার সচেতন মহল।

রোহিঙ্গাদের জন্ম নিবন্ধন ও নাগরিত্ব সনদ দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে সেনবাগ উপজেলার কাদরা ইউপি চেয়ারমান মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেছেন, আমাদের অফিস থেকে এমন কোন জন্ম সনদ বা নাগরিকত্ব সনদ দেয়া হয়নি। পাসপোর্ট প্রদানে সংশ্লিষ্ঠদের আরো দায়ীত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হুদা জানান, রোহিঙ্গারা পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে তদন্তে আমাদের অফিসের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো: আলমগীর হোসেন বলেন, তিনজন রোহিঙ্গা যুবক বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্তে যাদের জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া যাবে প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিন রোহিঙ্গা নাগরিক পাসপোর্ট পাওয়ার নেপথ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা করা ও রোহিঙ্গার যাতে সহজে পাসপোর্ট করতে না পারে তার জন্য সংশ্লিষ্ঠরা আরো দায়ীত্বশীল হবেন এমনটাই প্রত্যাশা জেলাবাসীর।

আরও পড়ুন