শামীম সংশ্লিষ্টতায় গ্রেপ্তার হতে পারেন আব্বাস, মির্জা আজমের দুঃখ

মাফিয়া ঠিকাদার জি কে শামীমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে গ্রেপ্তার হতে পারেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা মির্জা আব্বাস। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে জি কে শামীম অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন।
গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, জি কে শামীম মির্জা আব্বাসের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। মির্জা আব্বাসের তত্ত্বাবধানেই জি কে বিল্ডার্সসহ তার অন্যান্য ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয় বলে গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন জি কে শামীম। এই প্রেক্ষাপটে যেকোনো মুহুর্তে গ্রেপ্তার হতে পারেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

জানা গেছে যে, মির্জা আব্বাসের হাত ধরেই জি কে শামীমের উত্থান। মির্জা আব্বাস যখন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ছিলেন তখনই গণপূর্তে ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করেন শামীম। তার গডফাদার ছিলেন মির্জা আব্বাস।
এখনও মির্জা আব্বাসই শামীমের প্রধান পরামর্শক। মির্জা আব্বাসের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক যোগসূত্র রয়েছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য আছে। এর প্রেক্ষিতে যেকোনো সময় মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মির্জা আজমের যে দুঃখ

সাম্প্রতিক সময়ে শুদ্ধি অভিযানে যে একের পর এক যুবলীগ নেতার নাম বেরিয়ে আসছে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, ২৬ বছর আমি যুবলীগের রাজনীতি করেছি। এর বেশিরভাগ সময় জুড়েই রাজপথে বিএনপি-জামায়াতের অপরাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছি। যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। অথচ এখন যা হচ্ছে সেটা সত্যিই দুঃখজনক।’

সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যুবলীগ সবসময়ই যেকোনো অন্যায় অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করেছে। যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে আন্দোলন করেছি। ২৬ বছর আমি এই সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত থেকেছি। এখন যুবলীগের রাজনীতির নামে যা ঘটছে তার জন্য আমি লজ্জিত। বিতর্কিত বিভিন্ন ঘটনায় যুবলীগ নেতাদের নাম আসাটা সত্যিই লজ্জার বিষয়।
উল্লেখ্য, মির্জা আজম আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসেন। পরবর্তীতে আশির দশকে তিনি যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

আরও পড়ুন