শিক্ষাক্ষেত্র থেকে রাজনীতিকে দূরে রাখতে হবে

শিক্ষাক্ষেত্র থেকে রাজনীতিকে দূরে রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ এবং বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্তিতর্কের জায়গা থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় এক ছাঁচের হতে পারে না। যদি হয়, তবে সে দেশের শিক্ষা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা খুব সঙ্গত।’

শনিবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা ও তার বাস্তবায়ন’ শীর্ষক একক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সভায় একক বক্ততা উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান।

মুনতাসির মামুন বলেন, রাজনীতি থাকবেই। কিন্তু শিক্ষাক্ষেত্র থেকে রাজনীতি দূরে রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধু শিক্ষাক্ষেত্রে ওই পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যাননি। আজকের দিনে যেই দল ক্ষমতায় আসে, বিশ্ববিদ্যালয় সেই দলের হয়ে যায়। কুড়ি বছর আগে কিন্তু এই অবস্থা ছিল না।

একক বক্তৃতায় অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাভাবনা বাস্তবায়নের প্রমাণ ১৯৭২-৭৫ সময়কালে তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মাধমে পাওয়া যায়। দায়িত্বগ্রহণের পর তিনি আর্থিক সংকট থাকা সত্বেও পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণ করেন। একই সাথে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেন। বঙ্গবন্ধু দেশে ১১ হাজার প্রাথমিক স্কুল স্থাপন করেছিলেন।

উচ্চতর গবেষণার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু চারটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষানীতি কার্যকরে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে যে অনুপাতে বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছিল, তাতে আজও পৌঁছানো সক্ষম হয়নি। বাজেটে শিক্ষাখাতে প্রতিরক্ষা খাতের চেয়ে ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা বেশি দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু যে নীতি চালু করেছিলেন, তা ছিল তার সারাজীবনের শিক্ষা চিন্তার ফসল।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, বঙ্গবন্ধু যদিও গণতান্ত্রিক, মানবিক ও জাতীয়তাবাদী একজন নেতা। কিন্তু সেইসঙ্গে বামপন্থীরা কী ভাবছেন, প্রগতিশীলরা কী ভাবছেন সেদিকেও লক্ষ্য করতেন তিনি। ভিন্ন চিন্তাভাবনার লোকদের সাথে নিজেকে সংযুক্ত রেখে কাজ করতেন বঙ্গবন্ধু।’

আরও পড়ুন