শুক্রবার ও শনিবার বাসায় বসে রোহিঙ্গাদের ভোটার করা হত

ইসির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবাসায় বসে অফিস থেকে ল্যাপটপ এনে শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিনে রোহিঙ্গাদের ভোটার করত। এ পদ্ধতিতে ভোটার করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিত এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ইসির তদন্তে এমন তথ্য এসেছে বলে বলে জানিয়েছেন অণুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

ইসি সূত্র জানায়, ছুটির দিন হওয়ায় শুক্র ও শনিবারকেই মোক্ষম সময় হিসেবে বেছে নিয়েছিল অসাধুরা। কারণ ওই সময়ে কোনো নজরদারি নেই। নেই কোনো বাড়তি কাজের চাপ। তাই এ দু’দিনকেই মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ভোটার বানানোর জন্য উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নিয়েছিল তারা।

সম্প্রতি লাকী আক্তার নামে এক নারী লেমিনেটেড এনআইডি জমা দিয়ে স্মার্টকার্ড সংগ্রহ করতে গেলে তিনি রোহিঙ্গা বলে প্রমাণিত হয়। আর এই সূত্র ধরেই বেরিয়ে আসে চলমান ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি।

এনআইডি উইং মহাপরিচালক বলেন, ‘ইতোমধ্যে রোহিঙ্গদের ৬১ জনের তালিকা পেয়েছি যারা ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে- তারা কিভাবে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করল। কারা তাদের সহযোগিতা করল। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ল্যাপটপ চুরির বিষয়ে তিনি জানান, ২০১২ সালে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থেকে ৪টি এবং বিভিন্ন সময় আরো তিনটি ল্যাপটপ হারিয়েছিল। এইসব ল্যাপটপ দিয়ে ইসির সার্ভারে প্রবেশ করা যাবে না। কারণ সার্ভারে প্রবেশের জন্য ইসি নির্ধারিত পাসওয়ার্ড দেওয়া মডেম লাগবে।

একমাত্র ভিপিএন এর সংযুক্তির মাধ্যমে মডেম ব্যবহার করে তথ্য আপলোড করা সম্ভব। শুধু ল্যাপটপ দিয়ে কোনো কাজ হবে না। এ মডেম কর্মকর্তার বাইরে অন্যকে হস্তান্তরের সুযাগ নেই। কোনো কর্মকর্তা যদি এ অপতৎপরতায় কাউকে মডেম ব্যবহারের অনুমতি দেয় কিংবা কারো অবেহলায় হয়ে থাকে-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অতীতে এনআইডি কাজে সম্পৃক্ত ছিল তাদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বলে জানান এনআইডি উইং মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে ২০০৮ সাল থেকে এখান পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধের কারণে ইসি থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছে তাদের তালিকা করে সেই তালিকা ধরে আমরা বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছি । ইসির কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছি যাতে কোনো ভাবেই অস্থায়ী ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ দেয়া না হয়। ডাটা এন্টি অপারেটর হিসেবেও যাতে তারা নিয়োগ না পায় তারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। চাকরিচ্যুতদের আমরা কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখছি।’

মহাপরিচালক জানান, ইতোমধ্যে বিষয়টি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা কোনো ভাবেই ভোটার তালিকা হালনাগাদ বা রাষ্ট্র বিরোধী কোনো কাজ করতে না পারে।

আরও পড়ুন