শেয়াবাজারে বড়ো দরপতন

শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই এমন অবস্থা চলছে। মাঝে মাঝে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বা শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের খবরে চাঙ্গা হয়ে উঠে বাজার। তবে সে অবস্থা বেশিদিন টেকসই হয় না। বৃহস্পতিবারও শেয়াবাজারে বড়ো দরপতন হয়েছে।

খারাপ অবস্থায় থাকা শেয়ারবাজারের ভাল করতে গত মাসে প্রধানমন্ত্রী ৬টি নির্দেশনা দেয়। আর চলতি মাসের ১০ তারিখ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেয়। এর আগে অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ দেন রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলো যাতে বেশি বেশি শেয়ার কেনে। তবে এসব নির্দেশনার কোনটিই পালিত না হওয়ার কারণেই শেয়ারবাজারে পতন হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবীদ ও শেয়ারবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজার ভালো করার জন্য প্রধানমন্ত্রী যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন সেগুলো খুবই যৌক্তিক। তবে তা বাস্তবায়নের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকও সময়ে সময়ে যেসব নির্দেশনা দিচ্ছে তাও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের অনাস্থাও দূর হচ্ছে না। আমাদের শেয়ারবাজার মজবুত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

বৃহস্পতিবারও বড়ো দরপতন হয়েছে। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক কমেছে ৬৮ পয়েন্ট। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচক কমেছে ১৯৯ পয়েন্ট। সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম ও লেনদেন। এর ফলে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ছয় কার্যদিবস দরপতন হলো। এ ছয় কর্মদিবসে ডিএসইতে ২৭৮ পয়েন্ট কমেছে।

ডিএসই ও সিএসইর তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৮ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৪৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএস-৩০ সূচক ২৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৯২ এবং ডিএসইএস সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৬১ কোটি ৪১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬২৯ কোটি ৬৮ লাখ ১৪ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬০টির, কমেছে ২৫০টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

সিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৯৯ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৭৪২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৪টির, কমেছে ১৬২টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

আরও পড়ুন