শ্রমিকদের ঠকানো হবে না, ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা হবে: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক বলেছেন, পাটকল শ্রমিকরা তো আমাদেরই লোক এদেরকে ঠকানো যাবে না। প্রধানমন্ত্রী পাটকে ভালবাসেন। এই পাট আবার এগিয়ে যাবে। তাই শ্রমিক ভাইদের আমরা কোনোভাবেই ঠকাবো না। তাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, সরকারি টাকা। মাঝখানে কেউ নেই। এখানে কোনো দালাল নেই। অর্থাৎ শ্রমিকরা কি পাচ্ছে আর পাচ্ছে না সেটা আপনারা নিজেরাই জানতে পারবেন যখন আপনাদের একাউন্টে টাকা চলে যাবে।

তিনি আরও বলেন, পুরনো টেকনোলজি দিয়ে মাসের পর মাস আমাদের কারখানা টিকতে পারবে না। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যখন কথা হলো তখন তিনি বললেন, এই শ্রমিক ভাইয়েরা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আন্দোলন করেছে। ১ লাখ শ্রমিক যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। শ্রমিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মায়া আছে। শ্রমিক ভাইয়েরা সবসময় আমাদের সঙ্গে ছিল। তাদের আত্মত্যাগের কথা আমরা ভুলিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, আজকে এই শ্রমিকদের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে এই শ্রমিকদের দায়িত্ব নিয়েছেন সেখানে ভাববার কিছু নেই। আমি আবারও বলছি, প্রধানমন্ত্রী যখন শ্রমিকদের দায়িত্ব নিয়েছেন সুতরাং এখানে ভাববার বিষয় নেই। আমি আজকে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আছি, কাল নাও থাকতে পারি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। তিনি যখন দায়িত্ব নিয়েছেন সুতরাং শ্রমিকরা ভাল থাকবেন শান্তিতে থাকবেন এটা আমার ধারণা। শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। আমি সেই ব্যাখা আগেই দিয়েছি। আর দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকা ঠিক না।

কীভাবে এই টাকা পরিশোধ করা হবে তার ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকের পাওনার অর্ধেক নগদ এবং বাকি অর্ধেক তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র আকারে দেওয়ার ফলে শ্রমিকরা এক প্রকারের বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ের সুযোগ পাবেন, যা তাকে প্রতি তিন মাস অন্তর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মুনাফা দেওয়া হবে। এতে শ্রমিকদের জন্য একটি বাড়তি আর্থিক সুরক্ষা তৈরি হবে।

তিনি বলেন, ধরুন, যারা ১৪ লাখ টাকা পাবেন তাদের ৭ লাখ টাকা নগদ দেওয়া হবে। আর বাকি ৭ লাখ টাকার মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র থেকে তিন মাস পরপর ১৯ হাজার ৩২০ টাকা করে পাবেন। যাদের পাওনা ২৪ লাখ টাকা তারা তিন মাস পর পর সঞ্চয়পত্র থেকে ৩৩ হাজার ১২০ টাকা, যাদের পাওনা ৩৮ লাখ টাকা তারা সঞ্চয়পত্র থেকে ৫২ হাজার ৪৪০ টাকা এবং যাদের পাওনা ৫৪ লাখ টাকা তারা তিন মাস অন্তর সঞ্চয়পত্র থেকে ৭৪ হাজার ৫২০ টাকা করে পাবেন।

জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান ও একজন শ্রমিক নেতা বক্তব্য রাখেন।

 

আরও পড়ুন