শ্রীমঙ্গল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অবহেলায় বিপন্ন প্রজাতির হনুমান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হচ্ছে

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

শ্রীমঙ্গল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অবহেলায় বিদ্যুৎ তারে কভার না থাকার কারনে জাতীয় উদ্যান লাউয়াছড়ার বনের ভিতর দিয়ে নির্মানকৃত বৈদ্যুতিক তারে ঝড়ে পড়ছে বিলুপ্ত প্রজাতীর হনুমান ও বানরের প্রান। এক গাছ থেকে অন্য গাছ অতিক্রম করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হচ্ছে বিপন্ন প্রজাতির চশমাপরা হনুমানসহ বানর। গত ১৪ সেপ্টেম্বরেও এ ধরনের ঘটনা ঘটে উপজেলার রাধানগরের নতুনপাড়া এলাকায়।

শ্রীমঙ্গল রাধানগরের ইকো কটেজের মালিক সামসুল হক সাথে কথা বলে জানা যায়,ওই দিন এক গাছ থেকে অন্য গাছে যাওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয় একটি বিলুপ্ত প্রজাতীর চশমাপড়া হনুমান। আহত হনুমান বনের একটি লেবু গাছের ডালে চুপচাপ বসে ছিল। তার বাম চোখে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। খবর পেয়ে হনুমানটিকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার জন্য মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন লোক পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু বানরটি কিছুটা সুস্থ হয়ে বনের গাছের উপরে চলে যাওয়ায় তাকে আর ধরা যায়নি।

এধরনের হনুমানের মুখের চারপার্শ্বে বিস্তৃত সাদা রঙের বলয় সুস্পষ্ট গোলাকার চোখ থাকার ফলে তার নামকরণ হয়েছে চশমাপরা হনুমান। এরা সাধারণত দিবাচর এবং বৃক্ষবাসী। প্রধানত দলবেধে ঘুরে বেড়ায়। কখনো আবার জোড়ায় থাকে। মিশ্র চির সবুজ বনে এরা চলাফেলা করে এবং উচু ডালে লাফিয়ে বেড়ায়। এদের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ সেন্টিমিটার। এই বিপন্ন প্রজাতির প্রানীগুলোকে বাচাঁতে নির্মিত বৈদ্যুতিক লাইন গুলোতে কভার তার নির্মান করে দিলে বিপন্ন প্রজাতির প্রানী রক্ষা পাবে বলে মনে করেন এলাকার বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন