সাকিবের বিশ্রাম নীতি, যা ভাবছে বিসিবি

দেশের ক্রিকেটের উন্নতি এবং রিজার্ভ বেঞ্চ শক্তিশালী করতে রোটেশন পদ্ধতি বা বিশ্রাম নীতি কথা বলেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) খেলোয়াড়দের ফিট রাখতে বিশ্রাম দেয়ার এই পরামর্শ দেন সাকিব।

বিসিবি অবশ্য এখনও সাকিবের সেই পরামর্শ ভেবে দেখেনি। এই নীতি বাস্তবায়নের ব্যাপারেও কোনো আলোচনা করেনি বিসিবি কর্তারা।

তবে জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু অনেকটা একমত সাকিব আল হাসানের কথায়।

বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক মনে করেন, টানা খেলার মধ্যে থাকলে কিংবা উপভোগ না করলে বিশ্রাম দেয়া উচিত ক্রিকেটারদের। টাইগার প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘খেলা যদি পর পর হয় তাহলে অবশ্যই বিশ্রাম দিয়ে খেলালে ভালো। কোনো খেলোয়াড়ের ক্লান্তি চলে এলে বা উপভোগ না করলে তখন নিজে থেকেই বিশ্রাম নিতে পারে।’

এই প্রসঙ্গে মিনহাজুল আবেদিন নান্নু বলেন, ‘বিশ্রাম প্রক্রিয়ার কথা সাকিব বলেছে। এই ব্যাপারে আমরা কোনো কিছু চিন্তা করিনি। ‘এ’ দলের খেলা থাকে। পাইপলাইন ঠিক রাখতে ‘এ’ দলের খেলাই যথেষ্ট। তবে খেলোয়াড়রা খেলতে না চাইলে সেটি ভিন্ন কথা।’

বিশ্বকাপরে পর নিজেকে ফিট রাখতে শ্রীলঙ্কা সফর থেকে বিশ্রাম নিয়েছিলেন সাকিব। তিনি বলেন, একজন খেলোয়াড় সবসময় খেলতে পারবে না, তার বিশ্রাম প্রয়োজন। তখন দু’পক্ষ থেকেই দায়িত্ব নিতে হবে। যখন কোন খেলোয়াড় বলবে আমার বিরতি নেয়া উচিত বা কোচিং স্টাফ থেকে বলছে, তোমার এই ছুটি নেয়া উচিত। তখন সবারই সেটা বোঝা উচিত।

সাকিব বলেন, ভারতের একটা ভালো উদাহরণ দিতে পারি আমি। গেল বছর কম চোটে পড়েছে ভারতের খেলোয়াড়েরা। এর বড় কারণ হলো, তারা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে তাদের খেলোয়াড়কে খেলিয়েছে। এতে যা হয়েছে, তাদের অনেক খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে। অনেকে খেলোয়াড় পরিচিতি পেয়েছে। রোটেশন পদ্ধতির কারণে ভারতের খেলোয়াড়রা ফুরফুরা মেজাজে খেলতে পেরেছে এবং ভালো করতে পেরেছে। দেখা গেছে, বিরাট কোহলিসহ সবাইকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে সব ফরম্যাটেই। যা থেকে দল উপকৃত হচ্ছে।

রোটেশন পদ্ধতির কারণে পাইপলাইনের অনেক খেলোয়াড়কে সুযোগও দেয়া যায় বলে জানান সাকিব, যখন খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেয়া হবে, তখন অনেক খেলোয়াড়কে সুযোগ দেয়া যাবে এবং পাইপলাইন থেকে খেলোয়াড় বের হবে। তাই আমাদের এ ধরনের বড় পরিকল্পনায় যেতে হবে।

বিশ্বকাপ চলাকালীনও ইনজুরিতে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশের বেশ ক’জন খেলোয়াড়কে। ইনজুরি নিয়েও অনেকে খেলেছেন। কারণ তাদের বিকল্প হিসেবে কেউ খেললেও সেভাবে পারফরমেন্স করতে পারেননি। তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে হলে সকলের সমন্বয়ে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন সাকিব।

তিনি আরও বলেন, যদি আমরা কিছু করতে চাই, তবে কোচিং স্টাফ, বোর্ড ও খেলোয়াড়দের মধ্যে খুব ভালো একটা সমন্বয় গড়তে হবে। তা না হলে এটা নিয়ে অনেক সমালোচনা তৈরি বা নেতিবাচক কথা তৈরি হবে।

সাকিব এটাও আশা প্রকাশ করেছেন, বিসিবি আগামী তিন-চার বছরের জন্য নতুন পরিকল্পনা সাজাবে। তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে দু’জন প্রশিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি এবং তারা সবাই একত্রিতও হয়েছেন। এতে বিসিবি তাদের কৌশল পেশ করতে পারে। আমরা যদি এক সাথে কাজ করতে পারি, তবে আমার মনে হয়- গেল চার বছর আমাদের ক্রিকেট যেমন এগিয়েছিল, ঠিক সেভাবেই এগিয়ে যেতে পারবে।

এদিকে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীর মতে ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দেয়া সম্ভব কেবলমাত্র বিকল্প ক্রিকেটার থাকলেই।

প্রধান নির্বাহী ভাষায়, ‘ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড পুরো দলকে নিশ্চয়ই বিশ্রাম দেয় না। নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়ের ব্যাপারেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, এক সঙ্গে অনেক খেলোয়াড় নয়। যে ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দেওয়া হবে তাদের যথার্থ বিকল্পও থাকতে হবে। একজনকে বিশ্রাম দিলেন, তার জায়গায় যে খেলবে সে নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের সঙ্গে কতটা কার্যকর সেটাও দেখার বিষয় আছে।’

আরও পড়ুন