সাড়ে ৩ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে বরিশাল

৩ ঘণ্টা ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটে সড়ক পথে ঢাকার সায়দাবাদ থেকে বরিশালের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনাল। অবিশাস্য মনে হলেও পদ্মা সেতুর বদৌলতে এটাই এখন বাস্তবতা। আপাতত এটাই পদ্মা সেতুর সুফল বলে মনে করছেন সড়ক পথের যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। এ জন্য সরকার প্রধানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা। তবে পদ্মার সুফল পেতে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৯৭ কিলোমিটার সিঙ্গেল লেন মহাসড়ক দ্রুত ছয়লেন মহাসড়কে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন সুবিধাভোগীরা।

নতুল্লাবাদ কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনাল থেকে রবিবার ভোর সাড়ে ৫ টায় ৪০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার সায়েদাবাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে সাকুরা পরিবহনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস। বাসটি পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজায় প্রায় ৩০ মিনিট যানজটে পড়লেও সকাল সোয়া ১০ টার দিকে সায়দাবাদে পৌঁছে। সড়ক পথে প্রথমবারের মতো সাড়ে ৩ থেকে পৌঁনে ৪ ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছতে পেরে যাত্রী এবং পরিবহন চালক-শ্রমিকরা বেশ খুশী বলে জানান সাকুরা পরিবহনের বরিশাল কাউন্টার ইনচার্জ মো. আনিচুর রহমান।

সায়েদাবাদ থেকে সকাল ৮টায় বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ইলিশ পরিবহন বরিশালে পৌঁছে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে। ওই বাসের চালক মো. মোখলেস জানান, টোল ঘরে প্রথম দিন ভিড় থাকার পরেও সাড়ে ৩ ঘণ্টায়  যাত্রীদের নিরাপদে বরিশালে পৌঁছাতে পেরে আনন্দিত তিনি।

 

প্রথম দিন বাসে পদ্মা সেতু পাড় হয়ে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় বরিশাল আসা যাত্রীরা বলেন, খুব সকালে ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়ে বরিশালে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে আবার দিনের মধ্যেই ঢাকায় ফিরে যাওয়া যাবে। এর চেয়ে বড় চাওয়া আর কি হতে পারে।

রেজাউল তাছিন নামে এক ব্যক্তি বলেন, এখন থেকে পদ্মা সেতু পাড় হয়ে সড়ক পথে স্বল্প সময়ে রোগী নিয়ে ঢাকা যাওয়া যাবে। এটাই পদ্মা সেতুর সুফল।

নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসায়ী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আগে পদ্মাপাড়ের ফেরীঘাটে ২ দিনও পন্যবাহী ট্রাক আটকে থাকতো। কাঁচা পন্য পঁচে যেত। যথা সময়ে পন্য পৌঁছাতে না পাড়ায় খেসারত দিতে হতো। এখন আর সেই সমস্যা নেই। এখন সকালে ঢাকা থেকে পন্য নিয়ে বিকেলের মধ্যে বরিশালে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এটা প্রধানমন্ত্রীর অবদান।

এই রুটের বাস চালক মো. আলমগীর মিয়া বলেন, সায়েদাবাদ থেকে একটানে ভাঙ্গা। মাঝখানে টোলঘরে সামান্য বিলম্ব। কিন্তু ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৯৭ কিলোমিটার সিঙ্গেল মহাসড়কে ওভারটেকিং এবং ক্রসিং করতে ঝুঁকি নিতে হয়। এ কারণে এক গতিতে গাড়ি চালানো যায় না। দ্রুততার সাথে মহাসড়কের এই ৯৭ কিলোমিটার সম্প্রসারণ করা না হলে আগামীতে যানের গতি আরও কমবে এবং দুর্ঘটনা ঘটলে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হবে।

বিআরটিসি বরিশাল ডিপো ইনচার্জ ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর তারা বরিশাল-ঢাকার জন্য ১৪টি এসি সার্ভিস বাস চালু করেছেন। ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে ২টি, ভান্ডরিয়া ১টি ও বরিশাল-ঢাকা রুটে ১১টি এসি বাস চলবে। বরিশাল-ঢাকা যাত্রী প্রতি ৫শ’ টাকা ভাড়া হওয়ায় সরকারী এই পরিবহনে ব্যাপক চাপ রয়েছে।

অপরদিকে বেসরকারী পরিবহন কোম্পানীগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে জনপ্রতি যাত্রী ভাড়া নির্ধারন করেছে সাড়ে ৭শ’ থেকে ১ হাজার টাকা।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, পদ্মা সেতুর সুফল পেতে শুরু করেছে দক্ষিণাঞ্চলবাসী। এই সেতুকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোতে জেগে উঠবে বরিশাল। বিকাশ হবে কুয়াকাটাসহ অন্যান্য পর্যটনের। গড়ে উঠবে শিল্প-কলকারখানা। কর্মসংস্থান হবে লাখ লাখ তরুণ-যুবকের।

আরও পড়ুন