সিলেটে কাটেনি খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনো আক্রান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে চলছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার। ত্রাণের গাড়ি কিংবা নৌকা দেখলেই ছুটে যাচ্ছেন মানুষ। এক প্যাকেট ত্রাণের জন্য পাতছেন হাত। কেউ পাচ্ছেন ত্রাণ, আবার কেউ ফিরছেন খালি হাতে। যেসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কিছুটা ভাল সেসব এলাকায় ত্রাণ নিয়ে যেতে পারছেন সাহায্য নিয়ে আসা ব্যক্তি ও সংগঠনের লোকজন। কিন্তু বন্যায় এখনো যেসব এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে রয়েছে সেসব এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই দুর্গম দুর্গত এলাকায় ত্রাণের জন্য বেশি হাহাকার চলছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পড়েছে বেশি বিপাকে। না পারছে হাত পাততে, আবার না পারছে সইতে। তবে কিছু কিছু সংগঠন এসব পরিবারের খোঁজ নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে।

বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে খাবার ও পানির পাশাপাশি স্বাস্থ্য সংকটও দেখা দিয়েছে। ঘরে ঘরে ডায়রিয়া ও চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, বর্ন্যাতদের চিকিৎসা সেবা দিতে জেলায় ১৪০টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। তবে সূত্র জানিয়েছে, মেডিকেল টিমগুলো সকল জায়গায় যাচ্ছে না। টিমগুলোর কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঔষধও নেই।

এদিকে, রবিবার পর্যন্ত সিলেট জেলায় সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত প্রায় সকল ত্রাণ বিতরণ হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্য মতে, রবিবার পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল ১ হাজার ৪১২ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা ও ১৩ হাজার ২১৮ প্যাকেট শুকনো খাবার। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৯৯ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ টাকা ও শুকনো খাবারের সকল প্যাকেট বিতরণ হয়ে গেছে। অর্থাৎ রবিবার পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের ভান্ডারে ত্রাণ হিসেবে মজুদ ছিল মাত্র ১৩ মেট্রিক টন চাল। বরাদ্দ ফুরিয়ে যাওয়ায় সরকারি ত্রাণ কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। তবে বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশও দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন