সিলেটে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি, জনদুর্ভোগ চরম

সিলেটে সুরমা অববাহিকার পানি কোন কোন স্থানে কমলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টি হয়নি। কড়া রোদে প্রকৃতি ছিল আলো ঝলমল। বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে সতেজতা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু বিকালে আকাশের গোমাট ভাব মানুষ আবার দুশ্চিন্তায় পড়েন। তারপরও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন ঢল ও প্রবল বৃষ্টিপাত না হলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

অন্যদিকে কানাইঘাটে পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে শনিবার রাতের আধারে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। কানাইঘাট বাজারের প্রায় ৩ কিলোমিটার উজানে এ ঘটনার খবর পেয়ে রবিবার পানি উন্নয়ন বোর্ড‘র উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস.এম. শহীদুল ইসলাম, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খুশী মোহন সরকার, নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুজামামান সেখানে গিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের ও প্রশাসন সহযোগিতায় আবার বাধটি মেরামত করে দিয়ে বড় ধরণের ক্ষতির সামাল দেয়া হয়।

এদিকে কুশিয়ারা অববাহিকায় কোথাও কোথাও পানির চাপ বেড়েছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ এখনো লেগেই আছে। অনেক রাস্তাঘাট ডুবে আছে। উপদ্রুত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব তীব্র। অনেক স্থানে গো খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে। বাড়ীঘর ও অঙ্গিনায় হাটু পানি। এছাড়া শুকনো খাবার না থাকায় ত্রাণের অপেক্ষায় দুর্গত এলাকার মানুষ।

সোমবার দুপুরে কানাইঘাটে সুরমা বিপদ সীমার ৩৮ সে.মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কুশিয়ারা নদীর পানির উচ্চতা আমলশিদ, শেওলা পয়েন্টে কয়েক সেন্টিমিটার কমলেও শেরপুর এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বেড়েছে। পাহাড়ী ঢল বন্ধ হওয়ায় সারি, লোভাছড়া ও ধলাই নদীর পানি ভাটিতে বিস্তৃতি লাভ করেছে। শেরপুর ও ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারার পানি দুপুরে কমেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায় সোমবার দুপুরে কুশিয়ারা নদী আমলশিদে ও শেওলায় বিপদ সীমার কাছে ছিল। সিলেট নগরীর কাছে সুরমা বিপদ সীমার ৫৯ সে.মিটার উপরে ছিল দুপুরে।

নগরীতে জলাবদ্ধতা কাটেনি:

কড়া রোদ উঠলেও জলাবদ্ধতা কাটেনি সিলেট নগরীর আশাপাশ এলাকার। নগরীর বিভিন্ন রাস্তা ও বাসা বাড়ি জলমগ্ন। নগরীর বুক চিওে বহে যাওয়া সুরমা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় নগরী থেকে পানি নামতে পারছেনা। প্রায় বছরই এই দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে। নগরীর অভিজাত এলাকা উপশহরের , ডি ব্লক অর্ধেকের বেশি এলাকা এবং তেররতন, সৈয়াদীবাগ, গোলাপবাগসহ স¤পূর্ণ এলাকা পানির নিচে রয়েছে। উপশহরে পানি ঢুকে পড়ায় স্যুয়ারেজের পানি মিশে পরিবেশ বিষাক্ত করে তুলেছে। নগরীর দাড়িয়াপাড়া, কুয়ারপাড়, মেডিকেল এলাকা, বাগবাড়ি, শিবগঞ্জ, সুবহানীঘাটসহ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ।

আরও পড়ুন