সুশান্তের ভিসেরা রিপোর্টে যা জানা গেল!

বলিউডে বাজছে একের পর এক বিদায়ঘণ্টা। ইরফান খান, ঋষি কাপুরের পর ওয়াজিদ খানের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ছিল বলিউড। এর মধ্যে ১৪ জুন বান্দ্রার কার্টার রোডের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার হয় সুশান্তের ঝুলন্ত দেহ।

তাঁর ময়নাতদন্তের পূর্ণ রিপোর্টে স্পষ্ট যে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তরুণ অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। অবশ্য সুশান্তের পরিবারের অভিযোগ ছিল যে তাদের সন্তানকে সুপরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।

আত্মহত্যার মামলার তদন্তে নেমে মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, অভিনেতার ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট বলছে, আত্মহত্যাই করেছেন অভিনেতা। অন্য কোনো দিক নেই এই মৃত্যুতে। তবু প্রয়াত অভিনেতার ভিসেরা রিপোর্টের অপেক্ষায় ছিল পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে সুশান্তের ভিসেরা বা ফরেনসিক রিপোর্টও প্রকাশ করা হয়েছে। সুশান্তের ভিসেরা বা ফরেনসিক রিপোর্টে কোনো বিশেষ কেমিক্যাল পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি অ্যালকোহল। মুম্বাইয়ের জেজে হাসপাতালে সুশান্তের ভিসেরা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। তারাই গতকাল রিপোর্ট প্রকাশ করে মুম্বাই পুলিশের কাছে।

এর আগে গত ২৪ জুন সুশান্তের ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে মুম্বাই পুলিশ। চিকিৎসকদের কাছ থেকে পাওয়া সুশান্ত সিং রাজপুতের ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, আত্মহত্যাই করেছেন এই অভিনেতা। গলায় ফাঁস লাগার ফলে দম বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। পাশাপাশি রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। গলা টেপার কোনো চিহ্ন মেলেনি,পাওয়া যায়নি নখের দাগ।

সুশান্তের আত্মহত্যার ঘটনাটির তদন্ত করছে মুম্বাই পুলিশ। জানা গেছে, তদন্তের স্বার্থে মুম্বাই পুলিশ এ পর্যন্ত মোট ২৩ জনের বয়ান রেকর্ড করেছে। অভিনেতার পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন সুশান্তের কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা।

বলিউডের কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবরা এবং সুশান্তের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মডেল-অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বান্দ্রা পুলিশ। এ ছাড়া যশ রাজ ফিল্মসের সঙ্গে সুশান্তের যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল, সেটাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী আধিকারিকেরা। পুলিশ সূত্রে খবর, যশ রাজ ফিল্মসের সঙ্গে চুক্তি ভেঙে দিয়েছিলেন সুশান্ত। পুলিশকে এমনটাই জানিয়েছেন রিয়া চক্রবর্তী।

এমনকি রিয়াকেও চুক্তি ভাঙার পরামর্শ দেন সুশান্ত। ২০১২ সালে যশ রাজ ফিল্মসের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট সই করেন সুশান্ত সিং রাজপুত। এরপর ‘শুদ্ধ দেশি রোমান্স’ এবং ‘ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী’—যশ রাজের ব্যানারে এই দুই ছবিতে অভিনয় করেন তিনি।

এসব সূত্রে সুশান্তের এই মর্মান্তিক পরিণামের জন্য বলিউডকে দায়ী করেছেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌতসহ আরও বেশ কয়েকজন। এ জন্য তাঁরা বলিউডের ‘স্বজনপোষণ’ নীতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, সুশান্ত আত্মহত্যা করেননি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। বলিউডের কিছু মানুষের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেকেই।

১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া সুশান্ত পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। তাঁর বড় চার বোন আছেন। ২০১৩ সালে ‘কাই পো চে’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে সুশান্তর। একই বছরে মুক্তি পায় ‘শুদ্ধ দেশি রোমান্স’।

২০১৬ সালে ‘ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ মুক্তির পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি সুশান্তকে। শুধু ক্যারিয়ার আর লাইফ নয়, ব্যক্তিগতভাবেও সুশান্ত ছিলেন অনেক মেধাবী। ছিলেন পদার্থবিজ্ঞানে জাতীয় অলিম্পিয়াড বিজয়ী। আকাশের রহস্যময় জগতের প্রতি ছিল এক অন্য রকম আকর্ষণ। তাই তো ব্যালকনিতে বসিয়েছিলেন টেলিস্কোপ।

 

 

আরও পড়ুন