সৌদির গৃহকর্তারা অনেক খারাপ, শরীরে…

শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশী নারী কর্মীদের সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসা সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

গত সোমবার (২৬ আগস্ট) এক দিনে দেশে ফিরে এসেছেন ১১০ জন নারী। ওই দিন ফিরে আসা ১১০ জনের মধ্যে ২২ জন সিলেটের।

এদের মধ্যে একজন হবিগঞ্জের লাভলী (ছদ্মনাম) বেগম স্বামী ও ছয় বছরের মেয়েকে নিয়ে বাস করেন সিলেটের চন্ডিপুল এলাকায়।

সৌদি আরবের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভালো কইরা বাঁচার অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরব গেছলাম, কোনো রকম জীবন বাঁচাইয়া আইছি চোখি পানি নিয়ে’।

তিনি বলেন, ‘সৌদির কপিলরা (গৃহকর্তা) অনেক খারাপ। শরীরে হাত দেয়, খারাপ আচরণ করে। আবার কাজ করতে একটু দেরি হইলেই অনেক মারে। আমি দেয়াল মুছতে একটু দেরি করায় তিনদিন আমারে মারছে। এক সপ্তাহ কোনো খাওয়ার না দিয়া একটা রুমে বন্দি কইরা রাখছে। তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পাইরা পালাইয়া আইছি। আর কয়েকদিন ওই কপিলের বাসায় থাকলে আমি মারা যাইতাম।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে বিদেশে যাওয়া নারীদের প্রায় ৮০ শতাংশের গন্তব্য সৌদি আরব। সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং থেকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ২ হাজার ২২২ নারী গৃহকর্মী। আরও অনেকেই দেশে ফেরার জন্য সেফহোমে অবস্থান করছেন।

নির্যাতনের অভিযোগে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করে দিলে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে সৌদি আরব। এরপর থেকে গত জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ নারী কর্মী গেছেন দেশটিতে।

আরও পড়ুন