স্ত্রীকে নিয়ে দোকানে বসে সন্দেশ খেলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

গোপালগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী দত্ত মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের বানানো মিষ্টির স্বাদ নিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার ও তার স্ত্রী মিচেল এডিলমেন। এ সময় ওই দোকান থেকে ৩০ কেজি সন্দেশ কেনেন রাষ্ট্রদূত।

বৃহস্পতিবার রাতে গোপালগঞ্জ সার্কিট হাউজে স্ত্রীসহ নৈশভোজে অংশ নেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। সেখানে অন্য খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা হয় সন্দেশ। বেশ তৃপ্তি পান তাঁরা সন্দেশ খেয়ে। জানতে পারেন মিষ্টিটি আনা হয়েছে শহরের দত্ত মিষ্টান্ন ভাণ্ডার থেকে।

স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আজ শুক্রবার (২ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে হাজির হন দত্ত মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে রবার্ট মিলার দম্পতি। গোপালগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের কোর্ট এলাকায় অবস্থিত দোকানটির টেবিলে বসেন মিলার। পাশে স্ত্রী মিচেল এডিলমেন। সন্দেশ খেয়ে যাওয়ার সময় কিনে নেন আরো ৩০ কেজি।

দত্ত মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক বাবলু দত্ত জানান, হঠাৎ করেই মিলার ও তার সফরসঙ্গীদের গাড়ি দত্ত মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সামনে এসে দাঁড়ায়। অসংখ্য পুলিশ ও গাড়ি দেখে দোকান মালিক ও কর্মচারীরা ভয় পেয়ে যান। পরে তাদের দোকানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলার তার স্ত্রী ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে মিষ্টি খেতে বসেন। বাবলু দত্তের সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেন। ছবি তোলার জন্য পোজ দেন। বেশ কিছু ছবি তোলেন দোকান মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে হাতও মিলান মিলার। তিনি সুযোগ পেলে আবারও এই দোকানে মিষ্টি খাবেন বলে বাবলু দত্তকে জানান।

বাবলু দত্ত আরো বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে গোপালগঞ্জ সার্কিট হাউজে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নৈশভোজে আমার দোকানের সন্দেশ খান। মিষ্টি খেয়ে তার ভালো লাগে। তাই তিনি নিজেই দোকান দেখতে আসেন। তিনি যে কাজটি করেছেন সেটা আমার জন্য বিরাট ব্যাপার। ওনার মতো একজন ব্যক্তি আমার দোকানের টেবিলে মিষ্টি খেয়েছেন- এটা ভাগ্যেরও ব্যাপার। এই ঘটনায় আমি অনেক অনেক খুশি।

এর আগে বৃহস্পতিবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আর্ল রবার্ট মিলার। তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৪টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থলে যায়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের কাছে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রথমবারের মতো তিনি জাতির জনকের সমাধিতে এসেছেন। এখানে এসে শ্রদ্ধা জানাতে পেরে তিনি নিজেকে গর্বিত মনে করছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে তিনি গোপালগঞ্জ সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন। শুক্রবার সকালে মুকসুদপুর উপজেলার বানিয়ারচর গির্জা পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন