হংকং জুড়ে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন

বিমানবন্দর লক্ষ্য করে গণতন্ত্রীপন্থীদের বিক্ষোভ ঠেকাতে হংকং জুড়ে শনিবার দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গত বুধবার হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যাম আকস্মিকভাবে প্রত্যার্পণ বিল পুরোপুরি বাতিলের ঘোষণা দেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা বলছে, এ উদ্যোগ সামান্য এবং অনেক দেরী হয়ে গেছে। এছাড়া এটি যথেষ্টও নয়।

হংকং-এর নেতা বৃহস্পতিবার প্রতিবাদ সমাবেশ বন্ধ করে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের প্রতি আলোচনায় বসার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

হংকং-এ গত জুন মাসে প্রত্যার্পণ বিল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামে। ক্রমে তাদের দাবিনামায় আরো কিছু শর্ত যোগ হয়। সে থেকে এ পর্যন্ত নগরীতে লাখ লাখ লোকের বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে।

হংকংয়ে নেতৃত্ববিহীন এই আন্দোলন মূলত অনলাইনের মাধ্যমে আয়োজন করা হচ্ছে। শনিবার বিকেলে বিমানবন্দরের এই বিক্ষোভে অংশ নিতে অনলাইন বার্তায় বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।

কিন্তু নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাস, ফেরি ও রেল টার্মিনালে এতো বেশি সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যে তা দেখে মনে করা হচ্ছে বিক্ষোভ প্রতিহত করাই এর উদ্দেশ্য।

তবে, বিক্ষোভকারীরা কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করেই তাদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

এদিকে পুলিশের তল্লাশি ও কড়াকাড়ির কারণে বিমানবন্দরের দিকে খুব কম যানবাহন চলছে। পুলিশ প্রতিটি যান তল্লাশি করছে। বিশেষ করে তরুণরা তল্লাশির শিকার হচ্ছে বেশি।

হংকংয়ের এই বিমানবন্দর পৃথিবীর অষ্টম ব্যস্ততম বিমানবন্দর। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কয়েকবারই বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য ছিল এই বিমানবন্দর।

এদিকে, বিক্ষোভকারীরা বলেছে, তাদের সব দাবি পূরণ না হলে তারা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখবে। বিল বাতিল ছাড়াও তাদের আরো গুরুত্বপূর্ণ চারটি দাবি হলো- পুলিশের আচরণের তদন্ত, আটককৃত যে কাউকে ক্ষমা করে দেয়া, প্রতিবাদকারী যে কাউকে ‘দাঙ্গাকারী’ আখ্যা প্রত্যাহার করে নেয়া এবং সার্বজনীন ভোটাধিকার।

কিন্তু ল্যাম এসব দাবি উপেক্ষা করে আসছেন। অনেকে বলছেন, ল্যাম যদি কেবলমাত্র নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়টি সমর্থন করতেন তবু পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসতো।

আরও পড়ুন