হুরিয়ত কনফারেন্স’ ছাড়লেন জম্মু-কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গিলানি

একাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের সংগঠন ‘হুরিয়ত কনফারেন্স’ ছাড়লেন ভারতের জম্মু-কাশ্মীর ভিত্তিক নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি। আজ সোমবার সকালে চিঠি দিয়ে হুরিয়তের সাথে সম্পর্ক ছেদের কথা জানান ৯০ বছর বয়স্ক এই সিনিয়র নেতা।

গত তিন দশক ধরে উপত্যকার বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতির প্রথম সারির মুখ গিলানি এদিন এক অডিও বার্তায় জানান, বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আমি হুরিয়তের চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।

নব্বইয়ের দশক থেকে কাশ্মীর উপত্যকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হুরিয়ত কনফারেন্সকে নেতৃত্ব দিয়ে গিয়েছেন পাকপন্থী নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি। ২০০৩ সালে তাকে হুরিয়তে আজীবন চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত করা হয়। বিভিন্ন সময়ে কাশ্মীরে অশান্ত পরিস্থিতির জন্য মূলত তাকেই দায়ী করা হয়ে থাকে।

পরবর্তী সময়ে হুরিয়তের কট্টরবাদী আদর্শকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে সংগঠনের শীর্ষে উঠে আসেন মধ্যপন্থায় বিশ্বাসী তরুণ নেতা মিরওয়াইজ ওমর ফারুক। এরপর থেকেই শুরু হয় গিলানি-ফারুক মতবিরোধ। পরবর্তীকালে তেহরিক-ই-হুরিয়ত নামে একটি সংগঠন চালু করেন গিলানি।

প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরের গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন গিলানিসহ উপত্যকার বিচ্ছিন্নতাবদী নেতারা। গত বছরের আগষ্টে জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর গিলানিসহ অন্যদের ওপর নজরদারি আরও কড়াকড়ি করা হয়। গৃহবন্দি থাকাকালীন অবস্থায় শারীরিক ভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়ে তিনি।

তবে অডিও বার্তার পাশপাশি দলকে দুই পাতার বিস্তারিত চিঠিও পাঠিয়েছেন গিলানি। সেখানে গত বছরের আগষ্টে জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা বাতিল নিয়ে হুরিয়তের অন্য সদস্যদদের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন গিলানি। এমনকি, হুরিয়তের সংগঠকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা ছড়ানোর অভিযোগও এনেছেন গিলানি।

উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদী মাথাচাড়া দেওয়ার পর নির্বাচনী ময়দান থেকে সরে আসেন ‘সোপোর’ কেন্দ্রের তিনবারের বিধায়ক গিলানি। হুরিয়ত থেকে গিলানির এই সরে যাওয়ার ফলে কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতির প্রভাব অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ উপত্যকার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাপক প্রভাব ছিল এই হুরিয়ত নেতার।

 

আরও পড়ুন