হৃদরোগে মাঠেই প্রাণ হারিয়েছেন যেসব ফুটবলার

এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান এরিকসন। চলমান ইউরোতে গ্রুপপর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ড। ম্যাচের প্রথমার্ধের ৪৩ মিনিটে মাঠে লুটিয়ে পড়েন ডেনিশ মিডফিল্ডার এরিকসন। এসময় তাকে সিপিআর (মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস) দিতে হয়।

সঙ্গে সঙ্গে পার্কেন স্টেডিয়াম থেকে তাঁকে রিগসের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গোটা রাস্তায় গ্রিন করিডোর ধরে দৌড়ে যায় অ্যাম্বুলেন্স। কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসকেরা জানান যে এরিকসনের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। শেষ পর্যন্ত সেড়ে ওঠেন তিনি।

ইতিমধ্যে ফিনল্যান্ড বনাম ডেনমার্ক ম্যাচটাও বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। তবে এরিকসনের সুস্থতার খবর পেয়ে আবারও ম্যাচ শুরু করা হয়।

তবে, এমন অনেক ফুটবলার রয়েছেন, যারা এরিকসনের মতো সৌভাগ্যবান নন। বিশ্বে এখন পর্যন্ত ৫ জন ফুটবলার মাঠে অসুস্থ্য হয়ে আর ফিরে আসেননি। চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

 

ক্যামেরুনের ফুটবলার ছিলেন মার্ক ভিভিয়ান ফো। তিনি ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড দলের হয়ে খেলতেন। ২০০৩ সালের জুন মাসে ফ্রান্সে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে তিনি নেমেছিলেন। ম্যাচের ৭২ মিনিটে সেন্টার সার্কেলে লুটিয়ে পড়েন ফো। তাকে স্ট্রেচারে শুইয়ে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। তার হৃদযন্ত্র বেশ কয়েকবার পাম্প করা হলেও কোনও সাড়া দেননা তিনি । নিয়ে যাওয়া হয় স্টেডিয়ামের মেডিকেল সেন্টারে। তখনও তিনি বেঁচে ছিলেন। তারপর কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান এই ফুটবলার।

ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই ফো মারা গিয়েছিলেন। চিকিৎসা পরিভাষায় এটাকে হাইপারট্রফিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি বলা হয়। জানা গেছে, এই রোগে শারীরিক অনুশীলন করার সময়েই মৃত্যুর ঝুঁকি সবথেকে বেশি থাকে।

 

সেভিলা এবং স্পেনের উইং ব্যাক আন্তোনিও পুয়ের্তা মাত্র ২২ বছর বয়সে প্রাণ হারিয়েছিলেন। গেতাফের বিরুদ্ধে একটা ম্যাচ চলাকালীন তিনি হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। স্যানচেজ পিজুয়ানে আয়োজিত এই ম্যাচের মাত্র ৩৫ মিনিটের মাথায় তিনি নিজের গোলের দিকেই জগিং করতে করতে যাচ্ছিলেন। সেই সময়েই এ ঘটনা ঘটে।

এরপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনদিন পর তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকেরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরের একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যায়। আর তারপরেই মৃত্যু হয়েছে।

 

মাদারওয়েল দলের অধিনায়ক ছিলেন ফিল ও’ডোনেল অধিনায়ক। ডুন্ডির বিরুদ্ধে একটা ম্যাচ চলাকালীন ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং মারা যান। ৩৫ বছর বয়সি এই মিডফিল্ডারের কেরিয়ার গ্রাফটা অসাধারণ ছিল। তিনি স্কটল্যান্ড, সেলটিক এবং শেফিল্ড ওয়েডনেসডে’র হয়ে খেলেছেন। পরিবর্ত খেলোয়াড় মাঠে নামানোর আগেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

 

২০০৩ সালে ভারতে এসেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো সেবাশ্চিয়ানো ডি লিমা জুনিয়র। ন্যাশনাল ফুটবল লিগে তিনি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে সই করেছিলেন।জুনিয়রের মৃত্যুটা আজও ভারতীয় ফুটবল সমর্থকদের হৃদয়ে দগদগে ক্ষতের মতো লেগে রয়েছে।

ইস্টবেঙ্গলে দুর্দান্ত একটা মরশুম কাটানোর পর তিনি গোয়ার ক্লাব ডেম্পোয় যোগ দেন। ২০০৪ সালের অক্টোবর মাসে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে একটা ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন তিনি। ডেম্পোর দ্বিতীয় গোলের খোঁজে তিনি বক্সের মধ্যে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। ঠিক সেইসময় সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের গোলরক্ষক সুব্রত পালের সঙ্গে তার ধাক্কাধাক্কি হয়। মাঠে কিংবা কোনও চিকিৎসক ছিলেন না যিনি জুনিয়রকে সাহায্য করতে পারতেন। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই এই তরুণ জুনিয়র না ফেরার চলে যায়।

 

আইভরি কোস্টের ফুটবলার ছিলেন তিওতে। তিনি নিউকাসেল ইউনাইটেডের মতো ক্লাবের হয়ে অসাধারণ একটা কেরিয়ার গড়েছিলেন। কিন্তু, ২০১৭ সালে এক সোমবারের সকালে অনুশীলন চলাকালীন তিনি হঠাৎই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

 

আরও পড়ুন