হোম কোয়ারেন্টাইনে সময়কে কাজে লাগাবেন যেভাব

সচেতন না হয়ে আমরা আমাদের পরিবেশটাকে ভুতুড়ে পরিবেশ বানিয়ে ফেলছি এবং সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছি। আর অহেতুক আতঙ্কের কারণে সকলের মধ্যে ভয় ঢুকে যাচ্ছে। ভয় না পেয়ে ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে যত টুকু সম্ভব ঘরে বসে কাজ করতে হবে। কারণ যেই সময়টাতে আমরা ঘরে থাকবো সে সময়টাকে ক্ষতি হিসেবে না নিয়ে বরং সময়টাকে আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় হিসেবে তৈরি করতে হবে। অনেকেই হয়তোবা অবাক হচ্ছেন, সেই সাথে অনেকেই হচ্ছেন বিরক্ত । তবে হ্যাঁ কিভাবে এই সময়কে সবচাইতে মূল্যবান করে তোলা যায় তা নিয়েই আজকের আলোচনা।

১. প্রথমেই দৈনন্দিন জীবনের জন্য একটি রেগুলার ক্যালেন্ডার তৈরি করি এবং সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আমাদের অভ্যাসটা পরিবর্তন করি, যা কিনা আমাদের একটি শৃঙ্খলা লাইফ উপহার দিবে। যেমন, আমরা সবসময় এতটাই ব্যস্ত থাকি যে নিজের পরিবার তো দূরের কথা নিজেকেই সময় দেয়ার সময় পাই না, কিন্তু একটা পর্যায় গিয়ে যখন দেখি যে আমরা প্রচুর পরিশ্রম করি কিন্তু সে তুলনায় আমার আউটপুট তেমন আসে না, তখন আমাদের সার্ভাইব করতে প্রচুর কষ্ট হয়। তাহলে রেজাল্ট টা কি দাঁড়ালো ? এতো কাজ করলাম, সময় পেলাম না তাহলে জীবনের আউটপুট কোথায় ? ভুলটা কি ছিল ? যদি বলি লাইফ এ আমাদের কোনো রুটিন ছিলোনা। আর সেই জন্যই আমাদের সময়টাও কোনো কোয়ালিটি সময় ছিল না, আর কোয়ালিটি সময় না থাকার কারণে আমাদের লাইফেও তেমন কোনো আউটপুট আসে নি এবং আমাদের প্রিয় মানুষ গুলোর জন্যও কোনো সময়ও বের করতে পারিনি। তাই আমাদের প্রথম কাজ হবে, আমরা যদি আমাদের জীবনকে একটি কোয়ালিটি সময় উপহার দিতে চাই তাহলে আমাকে একটি কোয়ালিটি রুটিন তৈরি করতে হবে। আর সেটাই হচ্ছে রেগুলার ক্যালেন্ডার। সেই ক্যালেন্ডার এর মাধ্যমে আমরা যদি আমাদের প্রতিদিনের রুটিন ওয়ার্কগুলো সম্পন্ন করি তাহলে আমরা প্রচুর কোয়ালিটি সময় পাবো সেই সাথে আমাদের জীবনের আউটপুট তো আসবেই আর বোনাস হিসেবে পরিবারকে সময় দিতে পারবো এবং আর নানা টেনশন থেকেও মুক্ত থাকবো।

২. যেহেতু সচেতনতার কারণে ব্যক্তি স্বার্থে এবং সর্বোপরি দেশের স্বার্থে আমরা ঘর থেকে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হবো না, সেহেতু একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা বেশ কিছুটা সময় পাবো ভবিষ্যতের জন্য একটি গুছানো পরিকল্পনা তৈরি করতে । কারণ শত ব্যস্ততার কারণে নিজের জীবনকে নিয়ে, পরিবারকে নিয়ে ঠান্ডা মাথায় ভাবার সময় পাওয়া যায় না। তাই এই সময়ই হচ্ছে উপযুক্ত সময়।

৩. বর্তমান সময়ের কথা বিবেচনা করলে দেখা যায়, চাকরিজীবীদের মধ্যে কাজ করতে করতে একধরণের একঘেয়ামি চলে এসেছে , তাই তাদের জন্য এখনই সুযোগ পরবর্তী প্রমোশন ও লাইফ স্টাইল পরিবর্তনের জন্য কিছু কৌশল আয়ত্ত করা। যা আপনাদেরকে অন্য সবার চাইতে আলাদা করে গড়ে তুলবে।

৪. যারা সবসময় বাসায় থাকেন কিংবা শিক্ষার্থী তারা এই সুযোগটাকে হাতছাড়া করবেন না। কারণ প্রতিটি মানুষেরই পড়াশুনা কিংবা অন্যান্য কাজের পাশাপাশি কিছু করার আগ্রহ বা ইচ্ছা থাকে। আর এখনই সময় আপনাদের লাইফে একটি নতুন স্কিল যোগ করার। যেই কৌশল দ্বারা আপনি ফ্রিলেন্সিং এর মাধ্যমে ঘরে বসেই একটা বাড়তি আয়ের সুযোগ করে নিতে পারেন।

৫. আমাদের উদ্যোক্তাদের মধ্যে একাউন্টিবিলিটি কম থাকে। আর আমরা এটাও জানি যে আমাদের ব্যবসায়িক হিসেবের মধ্যে প্রচুর গরমিল রয়েছে। তাই এখনই সময়, এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের একাউন্টস ডিপার্টমেন্টকে সাজিয়ে গুছিয়ে ফেলতে পারি।

৬. আমাদের প্রতিনিয়ত যেকোনো বিষয়ে জানা বা শেখা এর প্রয়োজন আছে। যেহেতু আমরা ক্ষুদ্র এবং মাঝারি উদ্যোক্তা তাই আমাদের এক এক জনকে ৩/৪ জনের কাজ করতে হয়। ফলে ব্যবসায়িক উন্নয়নের জন্য আমাদের সাধারণত আপডেট টেকনোলজি সম্পর্কে জানা বা শেখা হয়ে উঠেনা । তাই এখনই সময় ব্যবসায়িক প্রয়োজনে আমরা ইন্টারনেট এর দুনিয়া থেকে আমাদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান নিতে পারি। শেখার জন্য এমন উপযুক্ত উপযুক্ত সময় আমরা হয়তো আর পাবো না।

৭. আমাদের অনেক কাছের বন্ধু-বান্ধব এবং আত্মীয়-স্বজন আছে, দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার কারণে তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়ে উঠেনা। এখনই সুযোগ, এই সময় তাদের মুঠোফোনে অথবা ভিডিও কল করে খোঁজ খবর নিন। এতে করে সবার মধ্যে একটি সুসম্পর্ক তৈরি হবে।৮. আমরা প্রচুর বই পড়তে পারি। যা কিনা আমাদের ইন্টারপার্সোনাল স্কিলকে অনেক সমৃদ্ধ করবে।

৯. এখনই সময়, সকল সোশ্যাল মিডিয়াতে (ফেইসবুক, টুইটার, লিংকডইন, পিন্টারেস্ট, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব) আপনার ব্যবসায়িক কিংবা ব্যক্তিগত পোর্টফোলিও রেডি করার, আর যদি প্রোফাইল অলরেডি সাজানো থাকে তাহলে রিলেটেড কনটেন্ট তৈরি করে প্রোফাইল গুলো সমৃদ্ধশালী করতে পারেন। আশা করছি উপরের কয়েকটি কাজ আমাদের সবার হোম কোয়ারেন্টাইন সময়টাকে কোয়ালিটি এবং আনন্দময় সময় হিসেবে তৈরি করবে এবং আমাদের লাইফে চমৎকার একটি শৃঙ্খলা নিয়ে আসবে যা ভবিষ্যতের জন্য একটি ফিক্সড অ্যাসেট তৈরি হয়ে যাবে। সেই সাথে ঘরে থাকার কারণে সামাজিক ভাবে আমরা করোনা কে আমাদের মধ্যে থেকে প্রতিহত করতে পারবো। আমাদের মাধ্যমে করোনা ছড়াবে না, এটা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারবো। সব শেষে একটা কথাই বলবো- “বাড়িতে থাকুন, নিরাপদে থাকুন, সময়কে কাজে লাগান”। করোনার বিরুদ্ধে বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।

সাঈদ রহমান,

পরিচালক (যোগাযোগ),

ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)

 

 

 

আরও পড়ুন