১৯ লাখ আসাম নাগরিক বঞ্চিতদের কি হবে!

আসামের প্রকৃত নাগরিকদের নামের তালিকা (এনআরসি) প্রকাশ করা হয়েছে। ওই তালিকায় চূড়ান্তভাবে ঠাঁই হয়েছে ৩ কোটি ১১ লাখ লোকের। এই তালিকা থেকে বাদ পড়ছে ১৯ লাখের বেশি মানুষ।

আসামের এনআরসি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। আজ শনিবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় অনলাইনে তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা প্রকাশের পর ১৯ লাখ ৬ হাজার মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে। খবর এনডিটিভির।

চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগের দিন শুক্রবার (৩০ আগস্ট) আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল রাজ্যবাসীকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়ে বলেছিলেন, কেউ যেন আতঙ্কগ্রস্ত না হন। যাদের নাম তালিকায় থাকবে না, তাদের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে (এফটি) আবেদন জানাতে হবে।

তিনি বলেন, নাগরিকত্ব প্রমাণে সরকার তাদের প্রত্যেককে সব রকমের সহায়তা দেবে।

আসামের জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধন তালিকায় যাদের নাম নেই, তাদের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে বলা হয়েছে ১২০ দিনের মধ্যে। এই বিষয়ে শুনানির জন্য রাজ্যজুড়ে এক হাজার ট্রাইব্যুনাল গড়ে তোলা হবে বলে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১০০ ট্রাইব্যুনাল খোলা হয়েছে। আরও ২০০টি ট্রাইব্যুনাল সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে খোলার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে মামলায় হেরে গেলে হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালে ব্যর্থ হওয়ার অর্থও বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত হওয়া নয়। ব্যর্থ নাগরিকেরা প্রথমে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে পারবেন, তারপর সুপ্রিম কোর্টের। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হলে কাউকেই ডিটেনশন ক্যাম্পে (ডি–ক্যাম্প) পাঠানো হবে না।

আসাম রাজ্য সরকার জানিয়েছে, যারা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাদের সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে, নাগরিকত্ব প্রমাণে।

বৈধ নাগরিকদের চিহ্নিত করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাতিল করার লক্ষ্যে নতুন করে এই নাগরিকপঞ্জি প্রকাশিত হল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পরবর্তীতে কী হতে যাচ্ছে আসামে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও ভারত কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী শনাক্তকরণে এই প্রক্রিয়া প্রয়োজনীয়।

তালিকা প্রকাশের পর বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কা করেই গোটা আসামকে নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। রাজ্য জুড়ে ৬০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আরও ২ হাজার আধাসেনা পাঠিয়েছে কেন্দ্র।

গত চার বছর ধরে সেখানকার বাসিন্দাদের নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণের নানা কাগজ-পত্র হাতে এক দরজা থেকে অন্য দরজায় ছুটতে হয়েছে।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে প্রথম খসড়া নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ করা হয়। সেখানে মাত্র এক কোটি ৮০ লাখ মানুষের ঠাঁই হয়। অথচ আবেদন করেছিল তিন কোটি ২৯ লাখ মানুষ।

এদিকে, চূড়ান্ত নাগরিকত্ব তালিকা ঘোষণা ঘিরে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যজুড়ে কয়েক হাজার আধা-সামরিক বাহিনী এবং পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা। থমথমে পরিস্থিতি। একসঙ্গে চারজনের বেশি জটলায় রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

আরও পড়ুন