২০ বছরের ছদ্মবেশের পর ধরা ফাঁসির আসামি

আপন ভাইসহ দুই জনকে খুন করে আত্মগোপনে চলে যান সৈয়দ আহম্মেদ। ছদ্মবেশ ধারণ করেন কখনো নৌকার মাঝি, কখনো দারোয়ান। কখনো বা মাজারের বাবুর্চি। এমনকী নিজেকে রক্ষা করতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন পরিবার পরিজনের সাথেও। নিজের নাম পরিবর্তন করে তৈরি করেন দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখকে ফাঁকি দিয়ে ২০ বছর ছিলেন ছদ্মবেশে। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর আকবর শাহ থানা এলাকা থেকে সৈয়দ আহম্মেদকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লে কর্ণেল এমএ ইউসুফ বলেন, লোহাগাড়ার আলোচিত ব্যবসায়ী জানে আলম হত্যা মামলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি ছদ্মবেশে আকবর শাহ থানা এলাকায় অবস্থান করছে এ তথ্যের ভিত্তিতে সৈয়দ আহম্মদকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ২০ বছর ধরে ছদ্মবেশ ধারণ করে পলাতক ছিলেন। তৈরি করে নিজের নামে দুটি জাতীয়তা পরিচয়পত্র। গ্রেফতার এড়াতে পরিবার পরিজনের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নও করেন।

জানা যায়, ২০০১ সালের ৯ নভেম্বর আপন ভাইকে নির্মিম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করে সৈয়দ আহমদ। এ মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ছিলেন ব্যবসায়ী জানে আলম। ওই মামলার প্রত্যক্ষদর্শী যাতে না তাকে এ জন্য জানে আলমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ২০০২ সালে ৩০ মার্চ ব্যবসায়ী জানে আলমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বড় ছেলে মো. তজবিরুল আলম বাদী হয়ে লোহাগাড়া থানায় ২১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। যার মধ্যে গ্রেফতার সৈয়দ আহম্মেদ ২ নম্বর আসামি। ২০০৭ সালে ২৪ জুলাই জানে আলম হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করে আদালত। যাতে সৈয়দ আহম্মদ ১২ জনকে ফাঁসি এবং ৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দন্ডিত করেন।

 

আরও পড়ুন