ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সার্ভেয়ার এর বাড়ীতে কোটি টাকার সম্পদ

॥ সুজন সরকার, সিরাজগঞ্জ ॥

advertisement

সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্ভেয়ার ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের ভাটপিয়ারী গ্রামের ময়দান
তালুকদারের ছেলে সার্ভেয়ার কোটিপতি মজিবুল হক তালুকদারকে। প্রায় ৩ কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতের মামলায় কারাগারে রয়েছে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা পরমানন্দা পালসহ ছয়
জন। এর আগে প্রায় ২৭লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে সার্ভেয়ার কোটিপতি মজিবুল হক তালুকদারের বিরুদ্ধে। ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রতিদিন আসে ভূক্তভূগিরা।

ভুক্তভূগিদের অভিযোগ, সরকারি উন্নয়ন কাজের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপুরণ পান তারা। কিন্তু সার্ভেয়ার মজিবুর হক তাদের বিভিন্ন ভাবে টাকা নিয়ে হয়রানী করছে বলে অভিযোগ করেন। একটি জমির বিপরিতে দুইবার টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে সার্ভেয়ার মজিবুর হকের বিরুদ্ধে। ২০০৭-২০০৮ সালে ২৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা পরিষদের পর ২০১২ সালের ১৮ জুলাই একই পরিমান টাকা হাতিয়ে নেয় সার্ভেয়ার মজিবুল
হকসহ কয়েক জন। ঐ সময় ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ছিলেন মো: জসিম উদ্দিন, সেই শাখায় সার্ভেয়ার হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছিলেন মজিবুল হক।

পরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করে ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হয়। সেই প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে আত্মসাত করা অর্থ উদ্ধারে ২০১৬ সালের ৫ সেন্টেম্বর প্রতিবেদন দেওয়া হয় ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আর সেই নথিও খুজে পাওয়া যায়নি দির্ঘ সময়। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কর্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ভূমি অধিগ্রহণকারী শাখায় প্রায় ১২ বছর ধরে সার্ভেয়ার পদে মজিবুল হক দ্বায়িত্ব পালন করছেন। অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তার সর্ম্পকিত বিষয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে করা তদন্তে বিষয়টি উঠে এসেছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে সেই তদন্ত প্রতিবেদনে সার্ভেয়ার মজিবুল হকের বিরুদ্ধে। সব শেষে রেলওয়ের সরকারি সম্পত্তি কে ব্যক্তিগত সম্পত্তি দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাতের মামলা হয় মজিবুল হকসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে। ঐ মামালায় মজিবুল হকসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দুদকের আইনজীবিরা বলছেন, মজিবুল হক ও তার সহকারীরা আরো বেশ কিছু এলএকেসের বিপরিতে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। সেই অর্থ দিয়ে ঢাকায় ২টি বাড়ী, ২টি প্রইভেট কারের মালিক হয়েছেন মজিবুর হক।

ঢাকা-মেট্র-গ-৩৩৬৫-১৪ এবং ঢাকা-মেট্র- গ-৩৩৬৫-১৬ এই গাড়ী দুটি তদন্ত করে পেয়েছেন দুদক। এদিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নে ভাটপিয়ারি গ্রামের সার্ভেয়ার মজিবুল হক তালুকদারের গ্রামের বাড়ীতে সরেজমিনে ঘুরে দেখা য়ায়, সরকারি অর্থ আত্মসাত করে বিশাল বাড়ী করেছেন দুটি, তিনটি মুরগির ফ্রার্ম, মাছের হাচারী, নলিছাপাড়া গ্রামে টুইস্টিং মিল, ভাটপিয়ারি ও তাড়াশে
রয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পত্তি। এলাকাবাসী জানান, ভাটপিয়ারি পুরান বাজারে মজিবুল হকের বাবা ময়দান এর চা দোকান ছিলো ও বড় ভাই মরহুম মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন সাইকেল মেকার থাকার মতো ছিলোনা তাদের ঘর।
স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে আড়ালে আবডালে চলছে নানা কথা। এবিষয়ে মজিবুল হকের বাবা ময়দান তালুকদার ও ছোট ভাই সুমনের সাথে কথা হলে তারা জানান, কি ভাবে সে এতো টাকার মানুষ হলো আমাদের জানা নেই।

যার কপাল সেই বুঝবে আমারা কিছুই জানিনা। মজিবুল হক সার্ভেয়ারের চাকুরি পাওয়ার পরে মজিবুল হকসহ পরিবার কোটিপতির বনেগেলো কি ভাবে এই প্রশ্ন জনমনে। মজিবুল হক স্কুলে পড়া লেখা করার সময় ঐ গ্রামের লুঙ্গী ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুল হালীমের মেয়েকে বাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেন এবং মজিবুলের বাবা ময়দান তালুকদার তাকে বাড়ী থেকে বের করে দেয় পরে লুঙ্গী ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুল হালীম তাকে সার্ভেয়ারে লেখাপড়া
করায়। টাকার গরমে ঐ গ্রামের তার ছোট ভাই সোহেল রানার নেতৃত্বে গণধর্ষণ করে পরে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় সোহেল রানাকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে দেয় সার্ভেয়ার মজিবুল হক। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে কোটে আত্মসম্পণ করলে কোট তাকে জেল হাজতে পাঠায়।

You might also like

advertisement