কুষ্টিয়ার পাঁচটি উপজেলাতেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

কুষ্টিয়ার নির্বাচন

advertisement

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। ফলে জেলার অপর পাঁচটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই পাঁচ উপজেলাতেই একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে আওয়ামী লীগ।

গত রোববার কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বর্ধিত সভায় দলের শীর্ষ নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। নেতারা বলেন, দলের কেউ দলীয় প্রার্থী ও নৌকার প্রতিপক্ষ হবেন না, তাহলে পরিণাম মোটেও ভালো হবে না।
তারপরও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা ভোটের মাঠে আছেন। ভোটের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁরা থাকবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কাল বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ কুষ্টিয়ায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

খোকসা উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান নৌকার প্রার্থী হয়েছেন। সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আল মাসুম মোর্শেদ শান্ত। মাসুম কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের সাবেক সাংসদ আবদুর রউফের সঙ্গে রাজনীতি করেন।

আল মাসুম অভিযোগ করেন, নৌকার প্রার্থীর লোকজন হুমকি দিয়ে আসছেন। যেহেতু কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন করতে হবে; বিএনপি নেই, তাই নিজেদের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যাচাই–বাছাই হবে। তিনি বলেন, ‘তাই ভোটের শেষ দিন পর্যন্ত মাঠে থাকব, ভোট করব।’

কুমারখালীতে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মান্নান খান দলীয় প্রতীক পেয়েছেন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জয়নাল আবেদীন ও সাবেক সাংসদ সুলতানা তরুণের ছেলে গোলাম জিলানী নজরে মুর্শেদ। দুজনই শক্ত প্রার্থী।

গোলাম জিলানী নজরে মুর্শেদও অভিযোগ করেন, দলীয় লোকজন হুমকি দিচ্ছেন ভোট করতে মাঠে নামতে দেওয়া হবে না। তাঁর সমর্থিত লোকদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ভোটেই প্রমাণ হবে কার জনপ্রিয়তা কতটুকু।

দৌলতপুরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হলেন দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ আফাজ উদ্দিন আহমেদের ছোট ছেলে এজাজ আহমেদ মামুন। এখানে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজ আল মামুন, সাবেক সাংসদ রেজাউল হক চৌধুরীর ছোট ভাই বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরী ও রেজাউলের ছেলে এমরান চৌধুরী কলিংস।

দৌলতপুরে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরী। তিনি তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ ৩৭ ভোট পেয়েছিলেন। আর যিনি নৌকা–সমর্থিত, তিনি পেয়েছেন ৭ ভোট। বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘এখানেই জনপ্রিয়তা প্রমাণ হয়ে যায়। তাই ভোটের মাঠ থেকে একবিন্দুও সরে দাঁড়াব না।’

মিরপুরে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামারুল আরেফিন দলীয় প্রতীক পেয়েছেন। এখানে জাসদের প্রার্থী হয়েছেন কারশেদ আলম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারুকুজ্জামান জন। কামারুলের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ফারুকুজ্জামান। আওয়ামী লীগ ও জাসদের একটি অংশ ফারুকুজ্জামানকে নীরবে সমর্থন দিচ্ছে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।

ভেড়ামারাতেও চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আকতারুজ্জমান মিঠুর সঙ্গে জাসদের প্রার্থী আবদুল আলীম স্বপনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ছোট এই উপজেলায় দুটি দলেরই সমানে সমান নেতা-কর্মী ও সমর্থক রয়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন, দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে কেন্দ্রের নির্দেশে মাঠে কাজ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের লোকজন কখনোই দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারেন না।
জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

You might also like

advertisement