নরসিংদীতে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক

এম,লুৎফর রহমান, নরসিংদী প্রতিনিধিঃ

advertisement

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার চরআমলাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১১ মার্চ) বিকেলে উপজেলার চরআমলাব এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষ ঘেরাও করলে পুলিশ তাঁকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। হারুন অর রশীদ গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কামালগাঁও এলাকার মৃত আবদুস সাত্তার মুন্সীর ছেলে। বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুদ্দিন ভূইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরআমলাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হারুন অর রশীদ দুই বছর আগে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সোমবার বিকেল তিনটার দিকে বিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠান চলার সময় অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে তাঁর কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি ঘটান প্রধান শিক্ষক। পরে ছাত্রীটিকে ঘটনা কাউকে না জানাতে হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। দুই মাস আগেও এই ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক শ্লীলতাহানি ঘটালে লোক লজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলেনি ওই ছাত্রী।

কিন্তু সোমবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে ছাত্রীটি পুরো ঘটনা তাঁর পরিবারের লোকজনকে জানায়। পরে পরিবারের লোকজন স্থানীয় লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অফিস কক্ষ ঘেরাও করলে প্রধান শিক্ষক ভেতর থেকে তাঁর কক্ষ আটকে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে তাঁকে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সমশের ভূঁইয়া জামান রিটন আহত হয়।

চরউজিলাব ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে আমিসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শমসের জামান ভূঁইয়া রিটন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি শতশত উত্তেজিত গ্রামবাসী বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ঘেরাও করে রেখেছে। পরে অনেক কষ্ট করে স্থানীয়দের রোষানল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি। তা নাহলে সে গণপিটুনির শিকার হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হত। বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ফখরুদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, প্রধান শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও এই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ছাত্রীটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

You might also like

advertisement