থামছেনা ধর্ষণ – প্রতিরোধে করণীয়

এম. এ জলিল রানাঃ

advertisement

থামছেনা ধর্ষণ! প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে এর মাত্রা। শিশু কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সিরা এর শিকার হচ্ছে হরহামেশা। নানাভাবে নানা পরিবেশে বিভিন্ন আঙ্গিকে ঘটে চলেছে এ নির্মম জঘন্য বর্বরচিত ঘটনা। ঘটনা ঘটছে প্রতিবাদ হচ্ছে, মামলা হচ্ছে অপরাধী গ্রেফতার হচ্ছে, বিচারের মধ্যদিয়ে সাজাও পাচ্ছে ধর্ষকরা। তবে কেন থামছে না? ঘটনার পর অপরাধীদের পাকড়াও করতে তৎপর থাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। দেশব্যাপী আলোচনা- সমালোচনার ঝড় উঠে। মানবাধিকারসহ নারী শিশু নিয়ে কাজ করে এমন অনেক সংগঠন মাঠে নামে। চলতে থাকে দফায় দফায় মানববন্ধন।

বুদ্ধিজীবি, গবেষক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাজনীতিবিদসহ সহকারী-বেসরকারী উচ্চ পদস্থ্য ব্যক্তিবর্গরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন টক-শো আলাপচারিতায়। সাদা কে সাদা, কালো কে কালো বলার মধ্য দিয়ে
সবাই চেষ্টা করেন সত্যকে তুলে ধরতে। অন্যায়ের বিচার হোক, অপরাধী কঠিন শাস্তি পাক এমনটাই সবার প্রত্যাশা। এমন উদ্ধেগ-উৎকন্ঠার মাঝে আবার যখন একই রকমের ঘটনার অবতাড়না হয় তখন সামনেরটা পিছনে ফেলে বর্তমান নিয়ে একই রকম ব্যস্ত থাকেন সবাই। দুঃখজনক হলেও এটাই সত্য এটাই বাস্তব আর এরই নাম ইতিহাস।

আইনী আলোকে ঘটনা, অপরাধ, অপরাধী, শাস্তিসহ ঘটনার নানা দিক নিয়ে চুলছিড়া বিশ্লেষণ হয়। কিন্তু এহেন লোমহর্ষক জঘন্য অপরাধ বন্ধে কোন প্রতিফলন দৃশ্যমান নয়। কিন্তু কেন? সেক্ষেত্রে ঘটনার কারণ চিহিৃত করা দরকার। প্রথমে কেন ঘটছে? কী কারণে ঘটছে? কাদের দ্বারা ঘটছে? প্রতিরোধে করণীয় কী? ঘটনার সাথে জড়িতরা কখনো রক্তের কেউ, কখনো পরকীয়া, আবার কখনোবা উঠতি বয়সী তরুন। এ ঘটনায় কখনো জড়িত শিক্ষাগুরু নামে কলংক শিক্ষক। এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে পরিচয় মেলে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের। কখনো ধর্ষণ, নয়তো গণধর্ষণ আবার কখনো ধর্ষণ শেষে হত্যা বা লাশ গুম।

দলমত জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে জড়িতরা যেই হোক না কেন, যে দলেরই হোক না কেন, আইনের উর্দ্ধে কেউ নয় মূলত সবার একটাই পরিচয় অপরাধী। করণীয়: যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, ইয়াবা, ইনজেকশন এবং কোমল নামধারী যৌন উত্তেজক পানীয়সহ সকল প্রকার মাদকদ্রব্য আমদানী, অবৈধ অনুপ্রবেশ, উৎপাদন এবং বাজারজাত বন্ধ করতে হবে। উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের আনন্দ
বিনোদনের নামে অবাদ মেলামেশা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। চলচ্চিত্রে নির্মীত নাটক, স্বল্পদৈর্ঘ্য টেলিছবি, সিনেমায় অশ্লীল-অশালীন দৃশ্য এবং শালীনতা বিবর্জিত পোষাক বর্জন করে শালীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

ফেইসবুক, ইন্টারনেট ও মোবাইলে যেসব অশ্লীল পণ্যগ্রাফী সাইট আছে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। স্কুল ও সদ্য কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দামী মোবাইল, ইন্টারনেট, ফেইসবুক ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে হবে। প্রত্যেক অভিভাবককে পারিবারিক ভাবে ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি সুশিক্ষার প্রতি নজর দিতে হবে। সরকারী-বেসরকারী সহ সকল অফিস আদালতে কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের ক্ষেত্রে চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা রাখতে হবে। বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের আচরণ শিক্ষাগুরুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ – বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নয়। আইনী প্রক্রিয়ায় বিদেশী নগ্ন টিভি চ্যানেল বন্ধ এবং প্রাচাত্য নগ্ন ও নোংরা কালচার পরিহার করতে হবে।

সন্তানদের সুশিক্ষার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের নিজ নিজ সন্তানদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ পরিহার করে সঠিক পিতা-মাতার দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রতিদিন সন্তানদের নিত্য প্রয়োজনে প্রদেয় অর্থ যথাযত ব্যবহার না করে বিপথে খরচ করছে কিনা তাও খেয়াল রাখা প্রত্যেক পিতা-মাতার অতীব জরুরী। বর্জনীয় কারণ পর্যালোচনা: দেশজুড়ে মাদকের ভয়াল আগ্রাসন। আমদানী নিষিদ্ধ ভারতীয় যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, ইয়াবা, ইনজেকশন, ফেনসিডিল, হিরোইন ও গাঁজাসহ নানা প্রজাতির মাদকের বিস্তার ঘটেছে।

শহর-নগর, বন্দরসহ প্রত্যন্তাঞ্চলেও। মাদকের মরণ ছোবল থেকে রেহাই পায়নি মানুষ তৈরির কারিগর শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পুরো দেশটা এখন মাদকের অভয়ারন্য। এর সাথে যুক্ত হয়েছে নামীদামী কোম্পানীর নিজস্ব উৎপাদিত নামধারী কোমল পানীয়। যা নেশা ও যৌন উত্তেজকে ভরপুর। যা সেবনে যুবসমাজ একদিকে যেমন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পঙ্গু হচ্ছে তেমনি অন্যদিকে যৌন উত্তেজনায় ভুগছে। ফলে ইন্টারনেট, ফেইসবুক, নাটক, সিনেমার অশ্লীল-অশালীন দৃশ্য এবং মোবাইল ফোনে কুরুচিপূর্ণ পন্যগ্রাফী দেখার প্রতি প্রতিনিয়ত আসক্ত হয়ে পড়ছে।

পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বিনোদন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন অঙ্গনে আনন্দ বিনোদনের নামে অবাধ মেলামেশার একপর্যায়ে ছেলে-মেয়ে, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী বা নারী-পুরুষেরা আপত্তিজনক অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে। যার বর্হিপ্রকাশ ধর্ষণে রুপ নিচ্ছে। স্ব-ইচ্ছায় যা হচ্ছে তার তো কোন সমিক্ষাই নেই। আগুনের সংস্পর্শে এল মোম গলে যাবে এটাই সঠিক। শিক্ষক শিক্ষার্থীর মধ্যে বন্ধুসুলভ আচরণের সুযোগে শিক্ষক শিক্ষার্থী অশালীন কাজে লিপ্ত হচ্ছে। প্রকাশ পেলেই ধর্ষণ শব্দটি উঠে আসে।

নারীঅফিস কর্মকর্তা কর্মচারীর মধ্যে ন্যূনতম ব্যবধান এবং সীমাবদ্ধতা না থাকায় বিয়ের প্রলোভন অথবা অন্য কায়দা অবৈধ্য সম্পর্ক চলছে দীর্ঘদিন। প্রকাশ হলে, শ্লীলতা হানি নয়তো উত্তক্ত অথবা ধর্ষণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ফলে কিছু সীমাবদ্ধ না থাকায় বিবাহিত নারীরা পুরুষের দিকে এবং পুরুষেরা নারীদের দিকে ক্রমান্বয়ে ঝুঁকে পড়ছে। কাঁচা লঙ্কার সাথে যতই মিষ্টি আলাপ করা হোক না কেন খেলে ঝাল লাগবে। অপ্রাপ্ত কিশোর- কিশোরীর হাতে দামি মোবাইল ফোন থাকায় অশ্লীল কু-রুচিপূর্ণ পর্ণ্যগ্রাফি তাদের কাছে সহজলভ্য হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাদের হাতে পর্যাপ্ত পয়সা থাকায় ইচ্ছে মতো যেখানে সেখানে খুশি আনন্দ আড্ডায় মেতে উঠছে।

সন্তানদের সাথে পিতামাতার বন্ধুসূলভ আচরণের ফলে একদিকে যেমন বেশি মাত্রায় ফ্রি হয়েছে অন্যদিকে তেমনি পিতামাতাকে ভয় পাচ্ছে না। ফলে যেটা হচ্ছে তারা মনে করছে এখন ডিজিটাল যুগ আর আমরা এ যুগের অত্যাধুনিকতার ছোঁয়ায় বেড়ে উঠছি। আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের হাতের মুঠোয়, আমরা যা বুঝি বাবা-মা তা জানে না। কোনদিন দেখেওনি, সুতরাং তারা যা করছে, তাদের মতে সবই সঠিক ও নির্ভুল। এই আত্মঘাতী নোংড়া বর্বরচিত লোমহর্ষক জঘণ্য অপরাধ থেকে বাঁচতে চাইলে, সমাজকে বাঁচাতে হলে, দেশকে ধর্ষণের কালিমা থেকে মুক্ত করতে হলে, প্রত্যেক পিতা-মাতাকে অনতীবিলম্বে সন্তানদের সার্বিক বিষয়ে সচেতন হওয়া অত্যাবশ্যকীয়।কিশোর কিশোরীদের চলাফেরা ও পোশাকের শালীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে। শর্ট ও কু- রুচিপূর্ণ পোশাক পরিধান বর্জন করতে হবে।
যে সমস্ত পোশাক শিল্প এ ধরনের রেডিম্যাড পোশাক তৈরী ও বাজারজাত করছে তাদের এবং যে সমস্ত টেক্সটাইল মিল সেলাই বিহীন একই রকম পোশাক তৈরী এবং বাজারজাতে জড়িত তাদের উভয়কে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা তথ্য প্রযুক্তির মধ্য দিয়ে বিশ্বায়নের যুগে পা রাখছি। তিনিয়তই অজানা-অচেনা অনেক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাথে আমরা পরিচিত হচ্ছি। প্রযুক্তি কাজে
লাগিয়ে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশও এগিয়ে যাচ্ছে। ক্ষেত মজুদ থেকে উচ্চ পদস্থ সব খানেই দিন বদলের হাওয়া। যেদিকে তাকায় আধুনিকতার ছোঁয়া আর পরিবর্তনের ছাপ দৃশ্যমান।

এমন অবস্থানে দাড়িয়ে ধর্ষণ নামের নোংড়া একটি ঘটনা বার বার পুণঃরাবৃত্তি ঘটছে। অথচ এটা থামানোর লক্ষ্যে জটিল একটি প্রশ্নের সহজ উত্তর আমরা কেন খুঁজছি না? লোহার টুকরার সংস্পর্শে চুম্বম এলে আকর্ষণ-বিকর্ষণ হবে, এটা যেমন সত্য তেমনি বাস্তব হলো বৈদ্যুতিক বাতি জালাতে বিদ্যুৎ প্রয়োজন। সেখানে দুটি পার্ট থাকে। নিউটাল এবং ফেজ উভয়ের সহযোগিতা ব্যতিত বাল্ব জ্বলা অসম্ভব। কোন কারণে একত্রিত হলে শকসার্কিট। আবার রাবার দ্বারা কাভারাইজ করা হলে থাকবে পাশাপাশি কিন্তু নিরাপদ।

পানি স্বাভাবিক অবস্থা তরল বেশি মাত্রায় উত্তাপ পেলে বায়ুবীয় অবস্থায় উড়ে যায়। আবার জিরো ডিগ্রীতে রাখা হলে বরফে পরিণত হয়।ছেলে মেয়েদের সাথে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কথা বললে, উত্তক্ত হয়, গায়ে হাত দিলে শ্লীলতা হানি, মোবাইল কোর্টে সাজাও হয়। মেয়েরা উগ্র, অর্ধনগ্ন এবং শালীনতা বিবর্জিত ভাবে অবাধ চলাফেরা ও মেলামেশা করলে তাকে কি বলা হয়?

advertisement

You might also like

advertisement