দেশব্যাপী নিষিদ্ধ হোক পরিবেশ বিধ্বংশী ইউক্যালিপটাস

এম এ জলিল রানাঃ

advertisement

দেশব্যাপী নিষিদ্ধ হোক পরিবেশ বিধ্বংশী ইউক্যালিপটাস গাছের চারা উৎপাদন, বিপনন, ও বনায়ন। পরিবেশের বন্ধু গাছ। মানুষের বন্ধুও বটে। মানুষ ও প্রকৃতি থাকে অতি কাছাকাছি। গাছ মানুষকে বাঁচার জন্য অক্সিজেন দেয়, ছায়া দেয়, ফল দেয়। গাছ নিজেকে বিলিয়ে দেয় মানুষের কল্যাণে। কিন্তু সেই গাছই যদি প্রকৃতির জন্য, মানুষের জন্য আগ্রাসী-প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে তবে তা আতঙ্কের বিষয়। এমনই এক প্রাণঘাতী গাছ পরদেশি ইউক্যালিপটাস। সবচেয়ে বেশি ইউক্যালিপটাস চোখে পড়ে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে। এক দশক আগে সরকার ইউক্যালিপটাস রোপন করা নিষিদ্ধ করলেও এখনো ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, নীলফামারী, সৈয়দপুর, কুড়িগ্রাম দিনাজপুরসহ বহু জেলায় বাণিজ্যিকভাবে চারা উৎপাদন ও রোপন করে চলেছে নার্সারী মালিকরা।

চাহিদা দাম ও জ্বালানী হিসেবে যতই ভাল হোক না কেন সর্বপোরি মানুষ ও পরিবেশের ভারসাম্যের কথা চিন্তা করে সরকার এই বৃক্ষকে ২০০৮ সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। অথচ এখনও দেশব্যাপী এ গাছের চারা নিরবে, নিভৃতে উৎপাদন, বিপনন এবং বনায়ন হয়ে চলেছে এই গাছ। প্রথম দিকে মহাসড়ক, পল্লী সড়কসহ পতিত জমিতে লাগানো হতো এ গাছ। এসব ছাড়িয়ে এখন ফসলী জমির
আইল, ফসলী জমিসহ বিভিন্ন নিচু শ্রেণীর সমতল ভূমি দখল করে নিয়েছে এ গাছ।

দেশের যে অঞ্চলে তাঁকানো হোক না কেন পরিবেশের জন্য বিরুপ প্রকৃতির এ গাছের উপস্থিতি চোঁখ ধাদিয়ে তুঁলে। সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণার পর উত্তরাঞ্চলের জয়পুরহাট জেলার বনবিভাগ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বৃক্ষ ইউক্যালিপটাস গাছ উৎপাদন, বনায়ন বিতরণ ও বিক্রি বন্ধ করে দেয় গত ২০১৪ সালের শেষের দিকে। কিন্তু তাঁতে কি ইউক্যালিপটাস বৃক্ষ উৎপাদন বন্ধ নেই। বরং জেলা থেকে উপজেলা ছাড়িয়ে এখন প্রত্যন্ত মাঞ্চলে নিরবে উৎপাদন, বিক্রি ও বনায়ন করে চলেছে ইউক্যালিপটাস চারা গাছ বেসরকারী নার্সারী মালিকরা। অথচ ২০০৮ সালে সরকার পরিবেশের ক্ষতির কারণ দেখিয়ে বনায়নের জন্য নিষিদ্ধ করে এই গাছটি।

উত্তরাঞ্চলের জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অনেক জেলাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় ইউক্যালিপটাস গাছের চারা উৎপাদন, বিপণন- বনায়নের সঠিক তথ্য কোন অধিদপ্তরে নেই। এ বিষয়ে জয়পুরহাট জেলার বন বিভাগ কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আনিছুর রহমান জানান, ইউক্যালিপটাস চারা উৎপাদন বিক্রি ও বানায়ন করা যাবেনা এমন কোন সু-নির্দিষ্ট আইন ফরেষ্ট ম্যানুয়ালে নেই। এমনকি ফরেষ্ট গবেষণার উচ্চ পর্যায় থেকেও এ ধরনের গবেষণামূলক কোন তথ্য তাদেরকে দেয়া হয়নি। তবে সরকার যেহেতু নিষিদ্ধ করেছে সেক্ষেত্রে এই চারা উৎপাদন, বিক্রি ও বনায়নের ক্ষেত্রে আমরা সবাইকে নিরুৎসাহী করছি।

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ডঃ সুনীল কুমার কুন্ডু এক তথ্যে বলেছিলেন, অতিরিক্ত পানি শোষণের কারণে ইউক্যালিপটাসকে পরিবেশের বিরূপ গাছ বলা হয়। তবে দ্রুত বর্ধনশীল, বেশি টাকা হাতে আসে, জ¦ালানি হিসেবে এই কাঠে কেরোসিন জাতীয় জ¦ালানী শক্তি অনেক বেশী, এই গাছ থেকে বাড়ি-ঘর নির্মাণের জন্য ব্যবহৃত খুঁটি-থাম্বা, টিনের ছাউনিতে এ গাছ থেকে রোয়া বাটাম তৈরি হয়, যাতে ঘুনও ধরে না বলে এ গাছ রোপনে আগ্রহী মানুষ। জয়পুরহাট জেলার বেসরকারী নার্সারী মালিক রজব আলী, রাজশাহী জেলার ধীরেন্দ্র নাথ, মহাস্থানের ইয়াসিন মন্ডলসহ দেশের বহু বে-সরকারী নার্সারী মালিকগণ বলেন, দ্রুত বর্ধনশীল চাহিদা তুলনায় দামও বেশি তাছাড়া বাড়ি-ঘর ছাউনির কাজে এর চাহিদা অনেক বেশি। তাই এটা চাষ করে থাকি।

সরকার নিষিদ্ধ করলে আমরা এ চারা উৎপাদন, বিক্রয় ও রোপন বন্ধ করব। উত্তরাঞ্চলসহ দেশব্যাপী মহাসড়ক জুড়ে ইউক্যালিপটাস গাছের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। উদ্ভিদবিদরা জানান, আশির দশকে দেশে এ গাছের প্রসার ঘটে। এটি মূলত মরু অঞ্চলের গাছ। গাছটি মাটি থেকে বেশি পানি ও খনিজ খাবার শোষণ করে। জয়পুরহাট সরকারী ডিগ্রী কলেজের উদ্ভিদ বিভাগের প্রভাষক তৌফিকুর রহমান সরকার বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টের জন্য দায়ী করা হয় ইউক্যালিপটাসকে। চাহিদা দাম ও জ্বালানী হিসেবে যতই ভাল হোক না কেন সর্বপোরি মানুষ ও পরিবেশের

ভারসাম্যের কথা চিন্তা করে সরকার এই বৃক্ষকে ২০০৮ সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে বাস্তবে দেশব্যাপী ক্ষতিকর এ গাছের চারা উৎপাদন, বিপণন ও বনায়ন করে চলেছে বেসরকারী নার্সারি মালিকরা। এ গাছের অন্যতম ক্ষতিকারক দিক হলো ১ হাজার মানুষ যে পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে, একটি মাত্র ইউক্যালিপটাস তার চেয়ে অনেক বেশি কার্বন-ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ গাছের চারা উৎপাদনসহ সবধরনের ব্যবহার মূলোৎপাটন করবে সরকার এমনটাই আশাবাদী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সচেতন মহল।

You might also like

advertisement