বুলেট শেষ হওয়ার প্রার্থনা করছিলাম

advertisement

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় অনেকেই হারিয়েছেন স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের। আবার অনেকেই দেখেছেন ওই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিভিএনজেড’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ১৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে আল নূর মসজিদে গুলি ছুড়েছে হামলাকারী। গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে জীবন বাঁচাতে দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করছিলো মুসল্লিরা। আমি দেখেছি একজনের বুকে গুলি করছে হামলাকারী।

তিনি বলেন, অপেক্ষায় ছিলাম, মূলত আমি অপেক্ষা আর প্রার্থনা করছিলাম। বলছিলাম, হে খোদা, এ মানুষটার বুলেটগুলো ফুরিয়ে যাক।

ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানান, হামলাকারী প্রথমে মসজিদে পুরুষদের জন্য নির্ধারিত নামাজ কক্ষে হামলা চালায়। এরপর সে নারীদের নামাজ কক্ষে গিয়ে গুলি ছুড়তে থাকে।

চাবি, জুতা ফেলেই জান বাঁচাতে দৌড় দেই:প্রত্যক্ষদর্শী বাংলাদেশি নারী

আল নূর মসজিদে যখন হামলা হয়, তখন আফসানা আক্তার রিতু ছিলেন মসজিদের ভেতরেই। আফসানার বাড়ি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে। এক বছর আগে তার বিয়ে হয় নিউজিল্যান্ড প্রবাসী এক বাংলাদেশির সঙ্গে। নয় মাস আগে তিনি দেশ ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে যান। আল নূর মসজিদ থেকে তাদের বাসা মাত্র এক মিনিটের পথ। বাসার কাছেই যেহেতু মসজিদ, আফসানা তাই প্রতিদিন সেখানে নামাজ পড়তে যেতেন।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে আফসানা আক্তার রিতু বলেন, আমরা মসজিদের ভেতরে ছিলাম। হঠাত্ করে একটা শব্দ পাই। শব্দ শুনে দৌড়াদৌড়ি করে বাইরে আসি। যারা গুলি করছিল, ওরা প্রথম মহিলাদের রুমে আসেনি, ওরা প্রথম গিয়েছিল পুরুষদের রুমে। আমরা তিনজন বাংলাদেশি একসঙ্গে ছিলাম। তিনজনই একসঙ্গে দৌড় দেই। গোলাগুলির শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে বাসার দিকে আসি। কিন্তু বাসার চাবি, জুতা এইগুলো মসজিদে রেখে আসছি। জান বাঁচানোর জন্য পালিয়ে আসি। তারা যে তিনজন একসঙ্গে ছিলেন, তাদের মধ্যে একজনের পায়ে গুলি লাগে। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্স এসে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আফসানা জানান, যে ব্যক্তি গুলি করছিল, তাকে দেখেননি তিনি। তিনি বলেন, আমরা ভয়ে পেছনে তাকাইনি। এই ঘটনার পর আফসানা এখন রীতিমত আতংকে আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মোহন ইব্রাহীমের বর্ণনা

হামলার সময় বাংলাদেশি বংশদ্ভূত মোহন ইব্রাহীম মসজিদে ছিলেন এবং তিনি পালাতে সক্ষম হন। তিনি বিবিসি’কে বলেন, মসজিদে অনেকেই ছিলেন যাদের সাথে আমার নিয়মিত দেখা হতো, তাদের অনেকেই আর নেই। এই বিষয়টি একেবারেই মেনে নিতে পারছি না।

ছাত্র হিসেবে পাঁচ বছর আগে নিউজিল্যান্ডে যান মোহন ইব্রাহীম। তিনি বলেন, এমন হতে পারে আমি কখনো চিন্তাও করিনি। আমি এখানে পাঁচ বছর ধরে থাকি, তাই আমি জানি যে নিউজিল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশগুলোর একটি। আমি আজ যা দেখেছি, কখনো চিন্তাও করিনি সেরকম কিছু আমার কখনো দেখতে হবে।

You might also like

advertisement