টোকিওতে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন

advertisement

বিনম্র শ্রদ্ধা ও অফুরন্ত ভালোবাসা নিয়ে প্রাণবন্ত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০১৯ উদযাপন করেছে জাপানের টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। রবিবার অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে আগত সকল শিশুকিশোর ও ছোট সোনামুনিরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গান। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বানী পাঠ করা হয়।

জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা সবাইকে স্বাগত জানান এবং বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবন সম্পর্কে বিষাদ আলোচনা করেন।

শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশের সৃষ্টি হতো না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা ও মুক্তির দূত। বঙ্গবন্ধু শিশুদের ভালবাসতেন, শিশুরাও বঙ্গবন্ধুকে আপন করে নিতেন। আর তাই এই মহান নেতার জন্মদিনকে জাতীয় শিশু দিবস হিসাবে পালন করা হয়। রাষ্ট্রদূত শিশু-কিশোরদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জীবন গড়ার ও বঙ্গবন্ধুর মত মানবীয় গুণাবলী সম্পন্ন হয়ে দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

পরে বঙ্গবন্ধুর কর্মজীবন, ত্যাগ ও সংগ্রামের উপর উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি নেতৃবৃন্দ এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এসময় তারা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দৃপ্ত প্রত্যয়ে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

পরে জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি শিশু কিশোরদের কাছে বিতরণকৃত জাপানী ভাষায় অনুদিত গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’ বইয়ের উপর কুইজ এবং ‘বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ’ বিষয়ের উপর যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। বর্ণিল সাজে শিশুগণ অনুষ্ঠানকে আকর্ষণীয় করে তোলে। এরপরই শুরু হয় শিশু কিশোরদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

টোকিও ও আশেপাশের অঞ্চল থেকে আগত প্রবাসী ও তাদের সন্তানদের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় মুখোর ও প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠেছিলো দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তন। জাপানে বসবাসরত শিশু-কিশোরদের জন্য আয়োজনটি- ‘প্রাণের মেলা’ হয়ে উঠেছিল। সেখানে গভীর শ্রদ্ধা ও পরম মমতায় তাঁরা স্মরণ করেছে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে, শিক্ষা নিয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ সম্পর্কে।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও র‍্যাফেল ড্র আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আগত সকল শিশুকেই উপহার প্রদান করা হয়। পরে মান্যবর রাষ্ট্রদূত বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে আরো আনন্দময় করতে আগত শিশুদের নিয়ে কেক কাটেন। এসময় বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ও দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা- কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

You might also like

advertisement