বঙ্গবন্ধুর কারাবরণের সময় প্রতিনিয়ত হত্যার পরিকল্পনা

advertisement

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য (ভিসি)প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান বলেছেন, ‘জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন নির্যাতিত, নিপীড়িত, শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের নেতা। সমসাময়িক সময়ে এ দেশে বঙ্গবন্ধুর চেয়ে বিদগ্ধ ও পণ্ডিত অনেক নেতাই ছিলেন। তারা সরকারের সাথে আঁতাত করে নিজেরা ভালো থাকার চেষ্টা করেছেন। ব্যতিক্রম ছিলেন শুধু বঙ্গবন্ধু। তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের সুখ-শান্তির কথা ভাবেননি। পশ্চিম পাকিস্থানী শাসকগোষ্ঠীর শোষণ-বঞ্চনা আর অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ করে বঙ্গবন্ধু সারাজীবন হাসিমুখে কারাবরণ করেছেন।

রবিবার সকালে ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বাঙালির প্রত্যয়-সোনার বাংলা গড়বে শিশু, বিশ্ব করবে জয়’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশুদিবসের শোভাযাত্রার উদ্বোধন করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়ার সভাপতিত্বে মুক্তিযুদ্ধের স্মারকভাস্কর্য ‘সাবাস বাংলাদেশ’ আয়োজিত সমাবেশে উপ উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা বক্তব্য রাখেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর লায়লা আরজুমান বানুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম মোস্তাফিজুর রহমান আল আরিফ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর এমএ বারী ও প্রক্টরসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন অনুষদের অধিকর্তা, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, হল প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতিসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার নেতা লেলিন, ইরানের নেতা খোমেনি, এমনকি কেনিয়ার নেতা বিদেশের মাটিতে বসে নিজ দেশের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আফ্রিকার নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা ২৭ বছর কারাগারে থেকে আন্দোলনে নেতৃত্বে দিয়েছেন। কারাগারে নেলসন ম্যান্ডেলার জীবনহানির ঝুকি ছিল না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কারাবরণের সময় প্রতিনিয়ত হত্যার পরিকল্পনা এমনকি চোখের সামনে কবর পর্যন্ত খোঁড়া হয়েছিল। তিনি দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্থানের কারাগারে কীভাবে ছিলেন, তা আমরা কেউ জানি না।

উপাচার্য বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরেই পরিবারের কাছে যাবার আগে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে গেছেন। বিমানে বসেই তার বিরোধিতাকারীদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক বিশাল হৃদয়ের মানুষ ছিলেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। যেই মানুষটি সারাজীবন সাধারণ মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন, সেই মানুষটিই সপরিবারে একসাথে জীবন দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে উপাচার্য বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেসা মুজিবের প্রেরণার কথা তুলে ধরেন।

এর আগে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে উপাচার্যের নেতৃত্বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর সেখানে শেখ মুজিবুর রহমান হল ও রাবি বঙ্গবন্ধু পরিষদসহ বিভিন্ন হল, বিভাগ, ইনস্টিটিউট এবং পেশাজীবী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

এরপর সকাল ৮টায় ‘সাবাস বাংলাদেশ’ চত্বর থেকে শুরু হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এবং শেখ রাসেল মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীদের শোভাযাত্রা নিজ নিজ স্কুলে শেষ হয়। বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে এ শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন উপাচার্য। সেখানে অন্যদের মধ্যে উপ-উপাচার্যদ্বয়, কোষাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, ছাত্র-উপদেষ্টা, প্রক্টর, রাবি স্কুল ও শেখ রাসেল মডেল স্কুলের অধ্যক্ষদ্বয়সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ সিনেট ভবনে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদ্বয় বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটেন। এ সময় অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে শেখ রাসেল মডেল স্কুলে শিশু সমাবেশ, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে কেককাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সকাল ৯টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে শিশু সমাবেশ, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে কেককাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’র নির্বাচিত অংশ থেকে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্যদ্বয়, কোষাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, ছাত্র-উপদেষ্টা, প্রক্টর, শেখ রাসেল মডেল স্কুলের অধ্যক্ষ মোমেনা জীনাত, রাবি স্কুলের অধ্যক্ষ মো. শফিউল আলম, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর মো. আবুল হাসান চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দিবসের কর্মসূচিতে রয়েছে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া এবং সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

You might also like

advertisement