দ্বিতীয় ধাপে ১১৬টি উপজেলায় ভোট

advertisement

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১১৬টি উপজেলায় ভোট আজ সোমবার। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোট। নির্বাচন উপলক্ষে ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী মালামাল কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যান চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকাগুলোতে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা টহল দিতে শুরু করেছেন। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে অস্থিরতা বিরাজের বিষয়টি আমলে নিয়ে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের ২৫ উপজেলার ভোটের মাঠে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

রবিবার সন্ধ্যায় ইসির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হয় তার জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কেউ যদি অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৭টি জেলার ১২৯টি উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল ইসি। এর মধ্যে গোপালগঞ্জের ৫টি উপজেলায় তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ছয়টি উপজেলা পরিষদের সবগুলো পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় নির্বাচনের প্রয়োজন নেই। এগুলো হলো রাউজান, মিরেরসরাই, নোয়াখালীর হাতিয়া, ফরিদপুর সদর, পাবনা সদর ও নওগাঁ সদর। দিনাজপুর সদর উপজেলার নির্বাচন চতুর্থ ধাপে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আদালতের আদেশে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৭৭ জন প্রার্থী। ভাইস চেয়ারম্যান ৫৪৮ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪০০ জন লড়াই করছেন। ২৩ জন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ১৩ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১২ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলেও প্রার্থী ও ভোটারদের উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা রয়েছে। লড়াই হচ্ছে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে। ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯ হাজার ৬ জন ভোটার ৭ হাজার ৩৯ ভোট কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

এদিকে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক রাখতে গত শনিবার থেকে মাঠে নেমেছে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ড, আর্মড পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ভোটের পরেও দুই দিন মাঠে থাকবেন তারা। এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ থাকবে। সাধারণ কেন্দ্রে ১৪ জন, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৫ জন ও অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৬ জন নিয়োজিত থাকবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রতি এলাকায় দুই থেকে তিন প্লাটুন বিজিবি ও র্যাব এবং কোস্টগার্ড, পুলিশ, আর্মড পুলিশ মোতায়েন থাকছে। রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে জেলা পর্যায়ে তিন দিনের জন্য মনিটরিং সেল এবং ইসির জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ইসি সচিবালয়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ভোটের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

২৫ উপজেলায় সেনা মোতায়েন : খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের ২৫ উপজেলার ভোটের মাঠে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, তিন পার্বত্য জেলাতে আমরা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছি। ইতোমধ্যে সেখানে সেনাবাহিনী কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। বিরাজমান পরিস্থিতিতে শান্তি চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে কিছু সমস্যা আছে। যার প্রেক্ষিতে এখানে পাহাড়িদের মধ্যে উত্তেজনা কাজ করে। তা প্রশমিত করার জন্যই সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য জেলা-উপজেলাগুলোতে পুলিশ র্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও আনসার মোতায়েন থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চ এই তিনদিন সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। ওইখানে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম এমনিতেই রয়েছে। যেহেতু এটা দুর্গম এলাকা এবং উপজাতিদের মধ্যে সংঘাত বিরাজমান তাই সব দিক বিবেচনা করে আমরা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাইলে তারা সাড়া দিয়েছেন।

দুই ওসি প্রত্যাহার :পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে দুইটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বদলির প্রস্তাব কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। তা হলো মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও গাইবান্ধার ফুলছড়ি। এছাড়া দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, বগুড়ার শিবগঞ্জ, নওগাঁর মান্দা, বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগামীকালের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসি সচিব বলেন, আমরা কিছু অভিযোগ পেয়ে তা তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি যার প্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা আমাদের নিতে হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে যে ১১৬ উপজেলায় ভোট :দ্বিতীয় ধাপে যে ১২৩ উপজেলার নির্বাচন হচ্ছে সেগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও জেলার সদর, পীরগঞ্জ, হরিপুর, বালিয়াডাঙ্গী ও রাণীশংকৈল। রংপুর জেলার গংগাচড়া, তারাগঞ্জ, পীরগাছা, বদরগঞ্জ, কাউনিয়া ও পীরগঞ্জ। গাইবান্ধা জেলার সদর, সাদুল্লাপুর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও পলাশবাড়ী। দিনাজপুর জেলার কাহারোল, বোচাগঞ্জ, চিরিরবন্দর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, হাকিমপুর, বীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, বিরল, পার্বতীপুর, খানসামা ও ঘোড়াঘাট। বগুড়া জেলার সদর, নন্দীগ্রাম, সারিয়াকান্দি, আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া, ধুনট, শাজাহানপুর, শেরপুর, শিবগঞ্জ, কাহালু, গাবতলী ও সোনাতলা। নওগাঁ জেলার আত্রাই, নিয়ামতপুর, সাপাহার, পোরশা, ধামাইরহাট, বদলগাছী, রাণীনগর, মহাদেবপুর, পত্নীতলা ও মান্দা। পাবনা জেলার আটঘরিয়া, বেড়া, ভাংগুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর, ঈশ্বরদী, সাঁথিয়া ও সুজানগর। সিলেট জেলার সদর, বিশ্বনাথ, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর, সদর, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল। ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী, চরভদ্রাসন, সদরপুর, সালথা, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, নগরকান্দা ও ভাঙ্গা। চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী। রাঙামাটি জেলার সদর, লঙগদু, নানিয়াচর, কাপ্তাই, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, কাউখালী, বরকল, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি। বান্দরবান জেলার সদর, রোয়াংছড়ি, আলীকদম, থানচি, লামা, রুমা ও নাইক্ষ্যংছড়ি। খাগড়াছড়ি জেলার সদর, মানিকছড়ি, লক্ষীছড়ি, দীঘিনালা, মহালছড়ি, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা ও রামগড় এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া।

You might also like

advertisement