সন্তানদের জ্যেষ্ঠ-কনিষ্ঠ ক্রমের ভূমিকা

advertisement

কনিষ্ঠ সন্তানরা তাদের জ্যেষ্ঠ সহোদরদের চেয়ে বেশি বিদ্রোহীসুলভ হয়। এতদিন প্রায় সবগুলো গবেষণায় এমন দাবি করা হয়েছিল; কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় প্রচলিত এই তত্ত্বের উপর ঠান্ডা পানি ঢেলে দিয়ে বলা হয়েছে, কথাটি একদম ঠিক নয়। অর্থাত্ সন্তানদের উপর জ্যেষ্ঠ-কনিষ্ঠ ক্রমের কোনো ভূমিকা নেই।

সন্তানদের ক্রমের উপর ব্যক্তিত্বের প্রভাব নিয়ে ১৯২০ সালে মনোবিদ আলফ্রেড অ্যাডলারের একটি লেখায় দাবি করা হয়েছিল বড় সন্তানরা বাবা-মায়ের বাধ্য এবং সফলতা দিয়ে তাদের খুশি করার চেষ্টা করে, মেঝ সন্তানরা স্বাধীনচেতা এবং স্বাস্থ্যবান হয় আর ছোটরা হয় বাহির্মুখী এবং বিদ্রোহীসুলভ।

এরপর বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞানীরা নানা-রকম গবেষণা চালিয়েছেন। প্রায় সবগুলোর ফলাফলে তারা অ্যাডলারের থিওরিকে সমর্থন জানিয়েছেন। ১৯৯৮ সালে ফ্রাংক জে সুলোওয়ে তার ‘বর্ন টু রিবেল’ গ্রন্থে লেখেন, বড় সন্তানরা সমাজে পরিবর্তনের বিরোধী, বর্তমানে যা আছে সেই পরিস্থিতি ধরে রাখার পক্ষে এবং ঝামেলায় না জড়ানোর পক্ষপাতি; আর ছোট সন্তানরা হচ্ছে ‘রিস্ক-টেকার’, বেপরোয়া এবং বিদ্রোহী। এরা ভয়কে জয় করে যেকোনো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে পিছপা হয় না।

গবেষণার বাইরেও আমাদের সমাজের সাধারণ মানুষের মাঝেও সন্তানদের নিয়ে এমন ধারণাগুলো প্রচলিত। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য অনেক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার সময় আবেদনকারী তার বাবার কততম সন্তান সেটাও বিবেচনায় নিয়ে থাকে। ক্যারিয়ারের ওপরও জন্মের ক্রমের প্রভাব আছে বলে ধারণা করা হয়।

কিন্তু চলতি সপ্তাহে পিএনএএস জার্নালে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শারীরিক, মানসিক কিংবা চারিত্রিক দৃঢ়তা কারো জন্মের ক্রমের উপর কোনোভাবেই নির্ভর করে না। দৈবচয়ন ভিত্তিতে বাছাই করে ১২ হাজার ৫০০ জনের উপর নতুন গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া ইতিহাসের ১৫৭ জন বিখ্যাত বিপ্লবী ও সমাজ সংগঠকের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে যাদের মধ্যে আছেন চে গুয়েভারাও (যিনি পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে বড়)। ক্রিস্টোফার কলম্বাসও ছিলেন ৫ সন্তানের মধ্যে বড়। বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট যিনি প্রথম জয় করেন সেই এডমন্ড হিলারিও ছিলেন বাবা-মায়ের জ্যেষ্ঠ সন্তান। এভাবে বহু উদাহরণ দিয়ে গবেষকরা উপসংহার টেনেছেন, সহোদরদের কে ছোট কে বড় তার উপর তার ব্যক্তিত্বের আদৌ প্রভাব নেই। -ডেইলি মেইল

You might also like

advertisement