মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র শিশুদের কাজে আসছে না

জুয়েল রানা লিটন,নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ

advertisement

মা ও শিশুর কোন কল্যাণে আসছে না নোয়াখালীর ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ হাসপাতাল। ২০০৫ সালে মা ও শিশুর কল্যাণের কথা চিন্তা করে সরকার জেলা শহরের বার্লিংটন মোড় নামীয় এলাকায় অত্যন্ত নিরিবিলি ও নিজর্লা পরিবেশে এ হাসপাতালটি স্থাপন করেন।

অভিযোগ ওঠেছে, উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত এখানে পর্যাপ্ত ও দায়িত্বশীল সেবা পাননি কোন মা ও শিশু। গত রোববার ও সোমবার দুপুরে গিয়ে তালিকাভুক্ত ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে মাত্র একজন আয়ারই দেখা মেলে। এ সময় তিনি কারো ফোন নম্বর কিংবা কোন তথ্য দিতে অপরারগতা প্রকাশ করেন। পুরো হাসপাতালটি ছিল জনমানবহীন ও ফাঁকা। প্রতিটি কক্ষই তালাবদ্ধ। সাধারণ বেডসহ কোথাও কোন রোগী ছিলনা। রোববার দুপুরে পুরো হাসপাতালেই দায়িত্বশীল কর্মচারী-কর্মকর্তার কাউকে পাওয়া যায়নি কোন টেবিলে।

এ সময় হাসপাতালের বারান্দায় ঘুরাফেরাকালে এ্যাম্বুলেন্স চালক আবুল কালাম জানান, মেডিকেল অফিসার ডাক্তার তাহমিনা আক্তার ও ডা. মো. জিহাদুল হক জেলার বাইরে আছেন। তবে তাদের আবাসনও হাসপাতাল এলাকায়। তবে হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দারা জানান, তিনি বেশির ভাগ সময় বেসরকারী হাসপাতালের রোগী দেখার কাঝে ব্যস্ত থাকেন।

এ সময় সদ্য প্রসব বেদনা নিয়ে ভর্ত্তি হয়ে ভোগান্তির শিকার হওয়া এক প্রসূতির স্বজন অভিযোগ করেন, এখানে নিয়মিত ডাক্তার বলে কেউ থাকেনা। দু’জন নার্স সুদীর্ঘকাল ধরে খাতাপত্রে কর্মচারী পরিচয়ে দায়িত্ব পালন করলেও এরা কোন রোগীর কোন সেবায় কাজে আসছেননা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে নিয়োগকৃত ডাক্তার ও কর্মচারীরা সরকারী যাবতীয় সুযোগ সুবিধা লুফে নিলেও বাস্তবে কোন মা এবং শিশুর কাজে আসছেননা তারা।

এলাকার জহির, আকবর, আলমগীর, নাছির, শিফিকা আক্তার, তুলিসহ বেশকিছু নাগরিক জানান, এ হাসপাতালের দেয়ালে সাধারণ মানুষের সেবা প্রদানের অঙ্গিকারে বিনামূল্যে ট্যাবলেটের তালিকায় ফেরাস সালফেট, বি কমপ্লেক্স, এলনেডাজল, প্যারাসিটামল, এণ্টাসিড, মেট্রোনাইডাজল, ক্লোরফেনিরমিন, সালবুটামল, ডায়াজিপাম, কেট্রোইমক্সাজল, ড্রাইসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লোক্সাসিন, রেনিটিডিন এবং এমোক্সিসিলিন, কেট্রোইমক্সাজল, প্যারাসিটামল, ক্লোরামকেনিকল আই অয়নমেন্ট, নিয়োমাইসন অয়নমেন্ট, বি ডব লেশন, হুইট ফিল্ড অয়নমেন্ট প্রদানের কথা রয়েছে। কিন্ত, সবই যেন কথার কথা। কিছুই দেয়া হয়না। তবে বেগমগঞ্জের হাসান হাটের আবদুর রহিম জানান, কোন গাইনী রোগী ভর্ত্তি থাকলে সামান্য ভিটামিন ট্যাবলেট ও স্বল্পমূল্যের সিরাপ পাওয়া যায়।

এছাড়া সিটিজেন চার্টারে গর্ভবতী, গর্ভোত্তর, নবজাতক, স্বাভাবিক প্রসব, গর্ভপাতজনিত, যৌনবাহিত রোগ, সিজাররিয়ান অপরারেশন, পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক পরামর্শ প্রদান, কপারটি, সাধারণ রোগীর সেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষামূলক সেবা, বয়:সন্ধিকালীন সেবাসহ নানা ধরনের সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি লিপিবদ্ধ থাকলেও বাস্তবে এর কোনটি নেই এ হাসপাতালে। অবশ্য নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক পরিদর্শিকা– জানান, সরকার কোন ওষুধ পথ্য না দিলে আমরা রোগীদের কোথা থেকে দেব।

তাছাড়া কপারটির ক্ষেত্রে কোন রোগীকে ২৫০ টাকা, ইমপ্ল্যাণ্ট এর ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা, স্থায়ী পদ্ধতির পুরুষের জন্যে ১০০০ টাকা ও একটি লু্িধসঢ়;ঙ্গ এবং মহিলাদের জন্যে ১০০০ টাকা ও একটি শাড়ী প্রদানের কথাও জানা নেই কোন রোগীর। এদিকে, জন্মনিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকারীভাবে দেয়া ১ ডজন কনডম মাত্র ১ টাকা বিশ পয়সার স্থলে এখানে কমপক্ষে ২০ টাকা রাখার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক এ কে এম জহিরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখি কেন ডাক্তার নেই। একজনতো থাকার কথা। তিনি বলেন, সেবার মান আগেও খারাপ ছিল। আমি আমার পর উন্নত করার চেষ্টা করছি। আপনারা একটু সহযোগিতা করবেন।

You might also like

advertisement