মেয়রের অনুরোধে রাস্তা ছাড়েননি শিক্ষার্থীরা

advertisement

বাসচাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র আতিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত হন। এসময় তিনি রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু মেয়রের অনুরোধে রাস্তা ছাড়েননি শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকালে দুর্ঘটনার পর রাজধানীর নর্দ্দায় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। দোষী চালকের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের অবরোধে বাড্ডা নতুনবাজার থেকে কুড়িলের পথে দুই দিকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করেন।

এরপর বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে যান মেয়র আতিকুল। তখন শিক্ষার্থীরা তার কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। তার মধ্যে রয়েছে- আবরারকে চাপা দেওয়া বাসের চালককে ফাঁসি দিতে হবে, সুপ্রভাত বাসের রুট পারমিট বাতিল করতে হবে, বাসস্টপেজের ব্যবস্থা করা, সিটিং সার্ভিস বন্ধ করা, চালকদের ছবি ও লাইসেন্স গাড়িতে ঝোলানোর ব্যবস্থা করা, বসুন্ধরা গেইটে ফুটওভার ব্রিজ করা, জেব্রা ক্রসিংয়ে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা ও ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতি বন্ধ করা।

এসময় মেয়র বাসচালকের শাস্তি নিশ্চিত করা ও নিহত শিক্ষার্থীর নামে সেখানে একটি পদচারী-সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সুপ্রভাত পরিবহনের কোনো বাস ওই রুটে চলতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। এরপর মেয়র অবরোধকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। এসময় অবরোধকারীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা মেয়রের কাছে প্রশ্ন রাখেন, জাবালে নূর পরিবহন এখনো চলছে। এখনো প্রতিদিন সড়কে মানুষ মারা যাচ্ছে। অবরোধকারীদের এমন মন্তব্যের পর মেয়র ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

সকাল ৭টার পর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেইটের সামনে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসচাপায় মারা যান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী। দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসের বিইউপি এডিবি গ্রেড গ্রাউন্ড মাঠে প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় আবরারের। জানাজা শেষে মরদেহ দাফনের জন্য বনানী কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

You might also like

advertisement