গ্রিনল্যান্ডে দীর্ঘমেয়াদে দুর্যোগের আশঙ্কা

advertisement

গত দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে গলে চলেছিল গ্রিনল্যান্ডের বৃহত্তম ও রহস্যজনক হিমবাহ ‘জ্যাকবশভন’। কিন্তু হঠাত্ করে সেই হিমবাহটি গলে যাওয়ার হার কমে গিয়ে উল্টো জমতে শুরু করেছে। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে সুখবর মনে হলেও জ্যাকবশভনের এ রহস্যজনক আচরণে রীতিমতো চিন্তিত বিজ্ঞানীরা। কারণ হঠাত্ করে এর কিছু অংশে যে বরফ জমছে তা গলতে শুরু করলে সমুদ্রের উচ্চতাও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে। দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের দুর্যোগেরও আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণাপত্রটি গত সোমবার প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার জিওসায়েন্স’-এর সংখ্যায়।

নাসার গবেষণা দলের প্রধান আলা খাজেন্দারের মতে, উষ্ণায়নের কারণে বিশ্বের জলবায়ু দ্রুত পরিবর্তনের জন্য এই অস্বাভাবিক আচরণ করছে হিমবাহটি। ২০০৩ থেকে ২০১৬, এই ১৪ বছরে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত হিমবাহটি প্রায় ৫০০ ফুট পাতলা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ২০১৬ সালের পর থেকে একটু একটু করে পুরু হতে শুরু করেছে হিমবাহটি। হিমবাহের যে দিকটি আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে অবস্থিত সেই দিকের পানি হঠাত্ করে ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার কারণে বরফ জমছে হিমবাহে। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর উত্তর আটলান্টিকের পানি এতটা ঠান্ডা হয়নি। তবে আটলান্টিক মহাসাগরের ঠিক কোন অংশের পানির তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাচ্ছে তার কারণ জানতে পারেনি বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা এখন সেই অংশের সন্ধান করছেন। তাদের মতে, আটলান্টিক মহাসাগরের ঐ অংশের সন্ধান পেলেই কেবল জানা যাবে কী কারণে পানি এতোটা ঠান্ডা হচ্ছে।

আলা খাজান্দার বলেন, জ্যাকবশভনের রহস্যজনক আচরণের বিষয়টি প্রথমে আমরা বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। গত বিশ বছরের ধারার সঙ্গে মিল নেই এর সাম্প্রতিক বছরগুলোর আচরণ। আগে এটি খুব দ্রুত গলত এবং সাগরের দিকে ধাবিত হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিমবাহটি খুব ধীরে ধীরে গলছে। তারপরও হিমবাহটির কারণে বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা। আর হিমবাহের যে অংশে অস্বাভাবিকভাবে বরফ জমেছে সেটি পুরোপুরি গলে গেলে সমুদ্রের উচ্চতা দুই ফুটের মতো বৃদ্ধি পাবে। —সিএনএন

You might also like

advertisement