থামছেনা অগ্নিকান্ড অপরিকল্পীত নগরায়ন অপূরণীয় ক্ষতি দায়ীকে?

অগ্নিকান্ড

এম.এ জলিল রানাঃ

advertisement

থামছেনা অগ্নিকান্ড অপরিকল্পীত নগরায়ন অপূরণীয় ক্ষতি দায়ীকে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ তিনি বনানী অগ্নিকান্ডের বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটরিং যোগাযোগ করেছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন সময় উপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাশাপাশি আশ^স্ত করেছেন আহত ও নিহতদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য এটি নিঃশন্তেদেহে প্রশংসার দাবীদার তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্য মন্ত্রী, উত্তরের সিটি মেয়র সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বৃন্দ বনানীর অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রনে কাজ করেছেন।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর দক্ষ সদস্যবৃন্দগণ। এটিও নিঃশন্দেহে সময় উপযোগি পদক্ষেপ তবে একটি কথা না বললেও নয় বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সাবেক মহা পরিচালক ডিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবু নাঈম শহিদুল্লাহ বলেছেন কোট মেনে বিল্ডিং হয়নি বলেই হতাহত হয়েছে এবং উত্তরের সিটি মেয়র আতিকুল ইসলাম বিশ্ময় প্রকাশ করে বলেছেন মাত্র ৩৬ ইঞ্জি উঠানামার সিড়ি এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

দুখঃজনক হলেও সত্য গুলশানে আবারো আগুন। বিগত এক দশকে সারা দেশে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৮টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কমপক্ষে দেড় হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। আহতদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭ হাজারের বেশি। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমান দায়িছে ৪ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা। সর্বশেষ গত ঢাকার বৃহস্পতিবার ঢাকার বনানীর ভয়াবহ অগ্নিদুর্ঘটনা এবং চকবাজারের চুড়িহাট্টাসহ চলতি বছরের আগুনের ঘটনায় এই হিসাবে আনা হলে নিহত, আহত এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেড়ে যাবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স তথ্য সূত্রে এসব জানা গেছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারী রাতে ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় সংঘটিত অগ্নিদুর্ঘটনার বিভীষিকাময় স্মৃতির রেশ এখনও কাটেনি।

সেখানে এখনও ফিরে আসেনি প্রাণচাঞ্চল্য ও শস্তি। এখনো শুখায়নি ক্ষত।। ওই ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা এখনও কেঁদে ফিরছেন। আহতরা হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে । এমন পরিস্থিতিতে সেই ঘটনার প্রায় ৩৫ দিনের মাথায় অভিজাত এলাকা বনানীতে ফের আরেক ভয়াবহ অগ্নিকান্ড। এভাবে একের পর এক ঢাকা ও আশপাশ এলাকায় আরও বেশকিছু ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ভয়ঙ্কর স্মৃতি মানুষ এখনও বহন করছে। এর মাঝে ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলী, শপিংমল বসুন্ধরা সিটিতে ২০০৯ ও ২০১৬ সালে দ্#ু৩৯;দফায়, কারওয়ান বাজারে বিএসইসি ভবনে একাধিকবার, ঢাকার আশুলিয়ায় তাজরিন গার্মেন্টস ও ট্যাম্পাকো, কড়াইল বস্তিসহ ঢাকার বিভিন্ন বস্তিতে আগুনের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও কয়েক বছর আগে পুড়েেেগছে ডিসিসি মার্কেট। আগুনে পুড়ে গেছে অভিজাত হোটেল সী সেলসহ তিনটি ভবন।

সব মিলে-মেশে আগুন শেষ করে দিচ্ছে বহু মানুষের স্বপ্ন ও বেঁচে থাকার স্বাভাবিক অবস্থা। পাওয়া তথ্য মতে গত ২০ ফেব্রুয়ারী চক বাজারে চুড়িহাট্টার অগ্নিকান্ডে মারা গেছেন ৬৭ জন। ৯ বছর আগে রাজধানীর নিমতলীতে লমহর্ষক অগ্নিকান্ডে মারা গেছেন ১২৪ জন। এ দুই ঘটনার জন্যই দায়ী করা হয় অবৈধভাবে
পরিচালিত কেমিক্যালের গুদামের ব্যবসাকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ওই কেমিক্যালই আগুনের তীব্রতা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য দায়ী সেজন্য জানমালের ক্ষয়-ক্ষতিও ব্যাপক। চুড়িহাট্টার এ ঘটনার ৬ দিন পূর্বে ১৪ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় ঢাকার শেরেবাংলানগর এলাকায় অবস্থিত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অগ্নিকান্ড ঘটনা ঘটে এতে এক শিশু রোগীর মৃত্যু হয়। ওই আগুন নেভাতে । ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিটকে কাজ করতে হয়েছিল। আগুনের কারণ অদৃশ্য। তবে যে রুম থেকে আগুন লেগেছে বলে অনুমান করা হত, সেখানে ওষুধসহ দাহ্য পদার্থ ছিল।

দুখঃ যনক হলেও সত্য ঘটনার সময় বিদ্যুৎ ছিল। তবে আগুনের ভিন্ন কারণের কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের যত আগুনের ঘটনা ঘটেছে এর প্রায় ৩৭ শতাংশের জন্য দায়ী বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট। এরপরই রয়েছে চুলা। চুলা থেকে আগুন লেগেছে ২৩.৪ শতাংশ। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কারণ হিসেবে প্রাথমিক ভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট কে দায়ী করেছেন। তবে উদ্ধার তৎপরতা সমাপ্ত করে অনুসন্ধান শেষে ফায়ার সার্ভিস আসল ঘটনা জানাতে পারবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট বসুন্ধরা শপিংমল সিটিতে আগুন লাগে।.

ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর জানা যায়নি। তবে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আগুন লাগার প্রায় ১০ ঘণ্টা পর তা নিয়ন্ত্রণ আনার ঘোষণা দিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস। এর আগে একই শপিংমলে ২০০৯ সালে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় তখন নিহত হয়েছিল সাতজন। ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর আগুন লেগেছিল রাজধানীর কারওরান বাজারে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন । (বিএসইসি) ভবনে। ভবনটির ১১তলায় আমার দেশ পত্রিকার গুদামে আগুন লাগে। তবে ওই আগুন ২ ঘণ্টার মাথায় নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছিল ফায়ার সার্ভিস বিভাগ। ২০১৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্প এলাকার ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটে।

বয়লার বিস্ফোরনে ঐ ঘটনায় নিহত হন ৩৫ জন। ২৪ নভেম্বর ২০১২ সালের আশুলিয়ায় নিশ্চিন্তপুরে তাজরিন ফ্যাশনের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১১৩ জন দগ্ধ হয়ে প্রাণ হানি ঘটে। আহত হন প্রায় শতাধিক শ্রমিক। গত বছর ১২ মার্চ রাজধানীর পল্লবীর ইলিয়াস আলী মোল্লা বস্তিতে আগুন লাগে। আগুণে বস্তিতে প্রায় ৫ হাজার ঘরের সব কিছু পুড়ে যায়। পরে ১৯ নভেম্বর রাজধানীর হাজারীবাগের বউবাজার বস্তিতে আগুনে মারা যান ১১ জন। ২০১২ সালে গরিব অ্যান্ড গরিব গার্মেন্টে আগুন লাগে, আগুনে মারা যান ২১ জন। হামীম গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকান্ড ২৯ জন নিহত হন। ২৮ জুন ২০১৩ সাল রাজধানীর মােহাম্মদপুরে স্মার্ট এক্সপাের্ট গার্মেন্ট লিমিটেডে আগুনে পুড়ে ৭ নারী পোশাক শ্রমিক মারা যান। ২০০৫ সালের এপ্রিলে স্পেকট্রামে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৬৪ জন শ্রমিক নিহত হন। আর আহত হন প্রায় ৮০ জন। ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ ও ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগে। পরের বছর ১৭ মার্চ একই বস্তিতে ফের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পুড়ে যায় ৪ শতাধিক ঘর। ১৮ মার্চ লালবাগে ২০টি ছাপরা ঘর পুড়ে গেছে।

ওই ছাপরা ঘরে প্লাস্কিকের দানা তৈরি করা হতো। ২০১৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী রাজধানীর আগারগাঁও বস্তিতে আগুনে পুড়ে যায় প্রায় ৩০০ বসতি। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য মতে দেশ ব্যাপী ১দশকে ১লাখ ৬৮ হাজার ১৮টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৯৩ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ২০০৯ সালে ১২ হাজার ১৮২টি। আর সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ২০১৪ সালে ১৯ হাজার ৬৪২টি। তবে সবচেযে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ২০১১ সালে। ওই বছর ১৫ হাজার ৮১৫টি ঘটনায় ৩৬৫ জন মারা গেছেন। দশ বছরে সবচেয়ে বেশি আহত হয়েছেন এই বছর ১ হাজার ৪৭৯ জন। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পরিসংখানে দ্বিতীয় স্থানে ২০১০ সাল। ওই বছর ২৭১ জন মারা গেছেন। এই এক দশকে আগুনে আর্থিক ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ দাড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২৮৬ কোটি ৮৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৯৪ টাকা। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য মতে, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঘটে ঢাকায়।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে দেশ ব্যাপী ১৯ হাজার ৬৪২টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৪৬১টি ঘটনা আবাসিক ভবনে। এর ২০৮৮টি ঢাকায়, চট্টগ্রামে ২৮৫ এবং রাজশাহীতে ১১৬টি। এ প্রসঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ বলেন, ঢাকায় মানুষের বসবাস বেশি। ভবন ও স্থাপনাদিও বেশি। অনেক অপরিকল্পিত ও অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগ রয়েছে। বিপরীত দিকে প্রযুক্তির যুগে নতুন নতুন ইলেকট্রিক গ্যাজেট, ল্যাপটপ, মোবাইল চার্জারসহ অন্যান্য দাহ্য পদার্থের প্রাপ্যতাও অনেক বেশি ঢাকায়।

তাই রাজধানীতে অগ্নিকান্ডসহ অন্যান্য দুর্ঘটনার সংখ্যাও বেশি। প্রসংঙ্গ ক্রমে বা সংগত কারণে বলতে হয় পরপর অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে রাষ্ট্র প্রধান সরকার প্রধান সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এটা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎপন্থা আলোচনা সমালোচনা দুখঃ প্রকাশ নিয়ে ব্যাস্ত কিন্তু লাভ কি? ঘটে যাওয়া ঘটনায় যে ক্ষতি তাকি কখনো পূরণ যোগ্য? অতএব, ভবনগুলো নির্মানের নকশা তৈরী থেকে শেষ অবদী পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়গুলো নজরে রাখেন না কেন?

যে নকশা করা হয়েছে কি আর নির্মান করা হচ্ছে কি? বিগত ২০১৬ সালের জানুয়ারী থেকে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ২০১৭ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত রাজধানীর ১৩০৫টি শপিংমল ও মার্কেট এ জরিপ চালিয়েছেন তাদের হিসাবে অনুযায়ী ৫টি বাদে বাকী সবগুলোই অগ্নি দুর্ঘটনায় ঝুকিতে রয়েছে। সুতরাং আর দেরী নয় সময় অনেক গড়িয়েছে এখনি সময় বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার।

You might also like

advertisement