ভারতের রাজনীতিতে নতুন নির্বাচনী কৌশলের জন্ম

advertisement

ভারতীয় রাজনীতি সর্বদা নতুন নির্বাচনী কৌশলের জন্ম দেয়। নির্বাচনী রাজনীতিতে টানা আধিপত্য বিস্তারের ২০ বছর পর ১৯৬৭ সালে কংগ্রেসকে প্রথমবারের মতো বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। ১৯৭৭ সালে ভারতে আরেকবার শক্তিশালী কংগ্রেসবিরোধী মনোভাব সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু তারপর ইন্দিরা গান্ধী আবারও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসেন। মোরারি-চরন সিং কোয়ালিশন ব্যর্থ হওয়ার সুফল পেয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী।

ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর, রাজীব গান্ধী বড় ধরনের বিজয় লাভ করেন এবং ১৯৮৯ থেকে ভারতীয় রাজনীতি সম্ভবত সবচেয়ে গতিশীল যুগে প্রবেশ করে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী বিজয় পর্যন্ত একটি জোট সরকার অব্যাহত ছিল। ১৯৮৯ সালে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ভি পি সিং কমিউনিস্ট এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) উভয়কে জানালেন অন্তত আগামী ৫ বছরের জন্য সম্মিলিতভাবে দেশ পরিচালনা করা উচিত। তিনি কোনো ধরনের বিবাদ চান না বলে জানান। এমনকি তিনি বিভিন্ন দলমতের রাজনীতিকদের জন্য সাপ্তাহিক নৈশভোজেরও আয়োজন করেছিলেন।

২০১৯ সালে এসে আমরা আবারো জোট রাজনীতির বিকাশ দেখতে পাচ্ছি। মোদী বিরোধীরা বলছেন প্রধানমন্ত্রী গত ৫ বছরে দেশের তেমন উন্নয়ন করতে পারেননি। তবে মোদী তার নিজের সফলতার বয়ান শুনিয়ে যাচ্ছেন। তবে এককভাবে কেউ ভোটের মাঠে লড়াই করতে সাহস পাচ্ছে না। জোট করার ক্ষেত্রে সব রাজ্যে দলগুলো সফলও হচ্ছে না। দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সেখানে জোট করার চেষ্টা করছেন। তবে এটা ফলদায়ক মনে করছেন না কেউ। কারণ দিল্লিতে কংগ্রেসের ভেতরে অনেকেই অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে সহ্য করতে পারেন না। উত্তর প্রদেশে মায়াবতী কিংবা অখিলেশ যাদব রাহুল কিংবা প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর আহ্বানে তেমন সাড়া দেননি। সমাজবাদী পার্টির মধ্যেও বিভাজন আছে। মুলায়ম সিং যাদব, তার স্ত্রী এবং পুত্রবধু সরাসরি অখিলেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস এবং এবং বামরা জোটের রাজনীতি শুরু করতে না করতেই তা অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়েছে। মমতা ব্যানার্জি এবং রাহুল গান্ধীর মধ্যে জোটও তেমন একটা জমেনি। যদিও কংগ্রেসের সঙ্গে মমতার জোটবন্দি হবার তেমন আগ্রহও ছিল না। মমতা ভালো করেই বুঝতে পারছেন, তার রাজ্যে কংগ্রেস দিন দিন দুর্বল হচ্ছে। ক্রমশ মাথা তোলার চেষ্টা করছে বিজেপি। আর অন্ধ্রপ্রদেশে এন চন্দ্রবাবু নাইডুও ভালো অবস্থানে নেই। জগন মোহন রেড্ডি তেলুগু দেশম পার্টির জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে হাজির হয়েছেন। তবে প্রত্যেকেই নতুন নতুন কৌশল তৈরী করে ভোটের মাঠে বাজিমাত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এবারের লোকসভা নির্বাচন হতে যাচ্ছে খুব চমক জাগানো। আগেভাগেই কেউই চুড়ান্ত ফলের ব্যাপারে কিছু বড় গলা করে বলতে পারছেন না। এবারই সম্ভবত ফল প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে চুড়ান্ত মন্তব্য করার আগে।

You might also like

advertisement