বাংলাদেশের প্রথম ভিসা পান ফিলিপ আলফন্সি

advertisement

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা এক সাংবাদিককে ‌‘ভিসা’ দেয় বাংলাদেশ। এটিই বাংলাদেশের নামে ইস্যুকৃত প্রথম ভিসা বলে মনে করা হয়। ২০১৪ সালে ঐ ভিসা সংযুক্ত পাসপোর্ট ফেরত এসেছে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যেমন দেশের সব শ্রেণির মানুষ অংশ নিয়েছিলেন তেমনি বিদেশি সাংবাদিক, শিল্পী, কবি সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণ উল্লেখ করার মতো। তেমনি একজন হলেন ফরাসী সাংবাদিক মি. ফিলিপ আলফন্সি। ১৯৭১ সালে ফ্রান্স টেলিভিশন-১ এ কর্মরত ছিলেন। মি. ফিলিপ আলফন্সি মুক্তিকামী মানুষের সংবাদ সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশে আসেন ১৯৭১ সালের ৩ এপ্রিল।

যুদ্ধ শুরুর পর পরই যখন দেশের অভ্যন্তরে উপস্থিত বিদেশি সাংবাদিকরা নিরাপত্তার অভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। এ সময়ই জীবনকে বাজি রেখে বাংলাদেশে আসেন তৎকালীন ফরাসী টেলিভিশন সাংবাদিক মি. ফিলিপ আলফন্সি। তার আসার সময় চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তার পাসপোর্টে বাংলাদেশের নামে ইমিগ্রেশন/ভিসা প্রদান করেন একটি সিলমোহর দিয়ে। যে সিলটি বাংলাদেশের নামে প্রথম সিল হিসাবে স্বীকৃত। ২০১৪ সালে তার বাংলাদেশ ভ্রমণের সময় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওই ঐতিহাসিক পাসপোর্টটি তার কাছ থেকে সংগ্রহ করে।

বাংলাদেশের প্রথম ভিসা পান ফিলিপ আলফন্সি
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর রিপোর্ট তৈরির জন্য তিনি ১৯৭১ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়ান এবং তৈরি করেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ টেলিভিশন রিপোর্ট। সেখানে তিনি তুলে ধরেন পাকসেনা কর্তৃক বাঙালিদের ওপর নির্যাতনের কাহিনী এবং বাংলাদেশের মুক্তিপাগল জনগণের আকাঙ্খা। সেই রিপোর্টগুলোর অনেকগুলোই ইউরোপ আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে প্রচারিত হয়েছিল। যা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছিল। ১৯৭১ সালের পর সাংবাদিক মি. ফিলিপ আলফন্সিকে বাংলাদেশের জনগণ ফিরে পায় ২০১২ সালে। শ্রীমঙ্গলের নাট্য ও সমাজকর্মী প্যারিস প্রবাসী প্রকাশ রায় ফ্রান্সের একটি ফিল্ম স্কুলে একটা কোর্স করার সময়, ফ্রান্সের জাতীয় অডিওভিসুয়াল ইন্সিটিউটে এক দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা ফুটেজ দেখতে পান। তারপর এই ফুটেজগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশে যোগাযোগ করে জানতে পারেন যে এই ফুটেজগুলো আমাদের দেশে নেই এবং সম্পূর্ণ অজানা। এই ফুটেজগুলো পাওয়ার পর তিনি পুনরায় অনুসন্ধান শুরু করেন ফ্রান্সের বিভিন্ন জায়গায়, ১৯৭১ সালে টিভি রিপোর্টগুলো যে সাংবাদিকরা করেছিলেন তাদের কাউকে পাওয়া যায় কিনা। দীর্ঘদিন অনুসন্ধানের পর সাক্ষাৎ পান ঐ সময়ের টিভি সাংবাদিক মি. ফিলিপ আলফঞ্চিকে। এই সাংবাদিকসহ আরও একজন সাংবাদিকের ভিডিও রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ রায় একটি পতাকার জন্ম নামে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন।

এই তথ্যচিত্র ফ্রান্সসহ সারা বিশ্বের অনেক দেশের টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। যা বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, আশা-আকাঙ্খা প্রকাশ পায়। সাংবাদিক মি. ফিলিপ আলফঞ্চিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সম্মাননা জানানো হয়নি বলে জানা যায়। তার সহকর্মী মারা গিয়েছেন অনেক বছর আগেই। তিনি আজ বৃদ্ধ, তবুও আশা করছেন, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা হয়ত তাকে আমন্ত্রণ জানাবেন, ১৯৭১ যুদ্ধকালীন যুদ্ধক্ষেত্রের বর্ণনা শোনার জন্য ও আজকের বাংলাদেশের পরিবর্তন দেখার জন্য।

You might also like

advertisement