১৩৬টি উপজেলায় স্বতন্ত্র বিজয়ী

advertisement

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ পর্যন্ত ১৩৬টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ৩০৪টি উপজেলায় জিতেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। এর মধ্যে ১০৭ জন বিনা ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) ৩টিতে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে ১৪ দলের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি-জেপির প্রার্থী একটি উপজেলায় জয়ী হয়েছেন।

প্রথম চার ধাপে ৪৪৪টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া ফলাফলে দেখা গেছে- ৩০ উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীরা ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে ভোটদান ছাড়াই জনপ্রতিনিধি পেয়েছেন ভোটাররা। ৩৩৩ উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে মূলত আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর। স্বতন্ত্র ১৩৬টিতে বিজয়ীর মধ্যে সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও বান্দরবনের একটি উপজেলায় বিএনপির বহিষ্কৃত নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে জয় পেয়েছেন। স্বতন্ত্র ১০টির মতো উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দলগুলো জয়লাভ করেছে। বাকিরা প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী। এছাড়া গোপালগঞ্জের উপজেলাগুলোতে আওয়ামী লীগ কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেয়নি। এখানকার সবাই ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। চারধাপে উপজেলা নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৪০ দশমিক ৬২ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন ৪৩৬ উপজেলায় ফল সমন্বয় করেছে। রাঙামাটির ৮ উপজেলায় ফলাফল সমন্বয় করেনি।

মূলত গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপিসহ সরকার বিরোধী অধিকাংশ দল উপজেলা নির্বাচন বর্জন করে। ফলে নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। নির্বাচনে বেশিরভাগ জায়গায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীরা প্রভাব বিস্তার করায় ভোটে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে ভোটাররা। প্রভাব বিস্তারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাতটি উপজেলার ভোট স্থগিত করে ইসি। উপজেলাগুলো হলো-পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, নোয়াখালীর কবিরহাট, কুমিল্লার তিতাস, নেত্রকোনার পূর্বধলা, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, লালমনিরহাটের আদিতমারি এবং কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী। ব্যালট ছিনতাই ও ভোট কারচুপির অভিযোগে এ পর্যন্ত ৬০টির মতো কেন্দ্রের ভোট স্থগিত আছে। আদালতের আদেশে আরো বেশ কয়েকটি উপজেলার ভোট স্থগিত আছে। আগামী ১৮ জুন পঞ্চম ধাপে ৪০টির মতো উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথমধাপে তিনটি উপজেলায় সবাই ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হন। উপজেলাগুলো হলো-জামালপুরের মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও নাটোর সদর। দ্বিতীয় ধাপে ৬টি উপজেলায় সবাই নির্বাচিত হন। এগুলো হলো-নওগাঁ সদর, পাবনা সদর, ফরিদপুর সদর, নোয়াখালীর হাতিয়া, চট্টগ্রামের মিরসরাই ও রাউজান। তৃতীয় ধাপে আরো ৬টি উপজেলার সবাই বিনা ভোটে নির্বাচিত। উপজেলাগুলো হলো-বরিশালের গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, মাদারীপুরের শিবচর, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ, নরসিংদীর পলাশ এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা। এছাড়া সর্বশেষ চতুর্থধাপে ১৫টি উপজেলা থেকে তিনটি পদের সবাই নির্বাচিত হন। সেগুলো হলো-ভোলা সদর, মনপুরা, চরফ্যাশন, যশোরের শার্শা, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, ঢাকার সাভার, কেরানিগঞ্জ, কুমিল্লার লাকসাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, দেবিদ্বার, চৌদ্দগ্রাম, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ, ব্রাহ্মবাড়িয়ার কসবা এবং ফেনীর পরশুরাম।

You might also like

advertisement