২৪ ঘন্টা পর আবার সম্প্রচার শুরু জি বাংলা চ্যানেল

সম্প্রচার

advertisement

কোনো ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ বাংলাদেশে ভারতের জি বাংলাসহ জি নেটওয়ার্কের কয়েকটি টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই হঠাৎ আবার চালু হয়ে যায়। প্রবাসী বাংলা টিভিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কেবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ।

মঙ্গলবার দুপুরে প্রবাসী বাংলাকে আনোয়ার পারভেজ বলেছেন, ‘শুধু ভারতের জি নেটওয়ার্কভুক্ত চ্যানেল না, কিছুদিনের মধ্যে বিশ্বের আরও যেসব দেশের চ্যানেল আছে, সেগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। সিএনএন, বিবিসিও বাদ যাবে না। কারণ, এসব চ্যানেলেও বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়। শুধু বাংলাদেশের চ্যানেল থাকবে। আমি তো বাংলাদেশের ৩০টা চ্যানেল দিয়ে ব্যবসা করতে পারব না। শুধু বাংলাদেশের চ্যানেল কোনো সাবস্ক্রাইবার দেখবে বলে মনে হয় না। আমার মনে হয়, ২ শতাংশ সাবস্ক্রাইবারও তখন থাকবে না। বাধ্য হয়ে তখন আমাকেও এই ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। ইউটিউব কেউ বন্ধ করতে পারবে? এসব সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটা হঠকারী সিদ্ধান্ত।’

কিন্তু তিনি আজ বললেন উল্টো কথা। আনোয়ার পারভেজ বললেন, ‘ভারতের টিভি চ্যানেলগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত আসলে ছিল না। ভারত থেকে যাঁরা চ্যানেলগুলো নিয়ন্ত্রণ করতেন, তাঁরাই বন্ধ করেছিলেন, তাঁরাই আবার চালু করেছেন। আমরা তো শুধু অপারেটর। তবে যা হয়েছে, এসবের শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত।’

বাংলাদেশের কেবল টেলিভিশন পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছিলেন, যেকোনো সময় চালু হয়ে যেতে পারে বন্ধ থাকা চ্যানেলগুলো। তাঁর কথা শেষ পর্যন্ত সত্য হয়ে ধরা দিল।

জি–বাংলাসহ কয়েকটি ভারতীয় চ্যানেল বন্ধের বিষয়ে সরকারের দিকে আঙুল তোলা হলে বিষয়টি নাকচ করে দেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বিকেলে হাছান মাহমুদ বিষয়টি নিয়ে বলেন, ‘টেলিভিশন শিল্পকে বাঁচাতে বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন বন্ধে সরকার আইন প্রয়োগ শুরু করেছে। সরকার কোনো চ্যানেল বন্ধ করেনি। সরকার প্রচলিত আইন প্রয়োগ করেছে মাত্র। বিদেশি চ্যানেলে বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্তে কঠোর থাকবে সরকার। কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন লঙ্ঘন করে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার করায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাত্র।’

‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’-এর উপধারা-১৯(১৩)-এর বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিদেশি কোনো চ্যানেলে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায় না। শুধু দেশীয় বিজ্ঞাপন নয়, কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন দেখানো যায় না। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের আইন। হাছান মাহমুদ বলেন, ১ এপ্রিল যে দুটি চ্যানেলকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, এই দুটি চ্যানেল বিদেশি বিজ্ঞাপন নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রচার করছিলেন। সরকার যা করেছে, তা টেলিভিশনের মালিক, সাংবাদিক, কলাকুশলীদের স্বার্থের জন্যই করেছে। কারণ, বিদেশে বিজ্ঞাপন প্রচার করার কারণে বছরে ৫০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে, অনেক সাংবাদিক, কলাকুশলী বেতন পাচ্ছেন না, যা করা হচ্ছে তাঁদের স্বার্থের জন্যই। তিনি বলেন, একই ধরনের আইন ভারতে আছে, যুক্তরাজ্যে আছে, কন্টিনেন্টাল ইউরোপে আছে, অন্য দেশে আছে। সেসব দেশে এই আইন মানা হয়। হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে আইনটি মানা হচ্ছিল না। আইনটি প্রয়োগ করা হয়নি। এটি না করার কারণে যেটি হয়েছে—বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো যে বিজ্ঞাপন পেত, সেই বিজ্ঞাপনের বড় একটা অংশ চলে গেছে ভারতে।’

You might also like

advertisement