নুসরাত হত্যা আসামি শাহাদাত গ্রেফতার

advertisement

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেনকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিয়েছেন দৈনিক ইত্তেফাকের মুক্তাগাছা সংবাদদাতা মনোনেশ দাস।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আলী মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশ মুক্তাগাছা শহরের জনতা গেস্ট হাউজ থেকে শাহাদাতকে গ্রেফতার করে। সে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা ছাত্রলীগের সভাপতি ।

মনোনেশ দাস জানান, জনতা গেস্ট হাউজটি তাদের পৈত্রিক ব্যবসা। শুক্রবার রাতে হোটেলের বর্ডার এন্ট্রি খাতায় শাহাদাতের নাম ঠিকানা অসঙ্গতি দেখে হোটেলের একজন স্টাফের মোবাইলের মাধ্যমে আসামি শাহাদাতের সঙ্গে কথা বলে তার সঠিক পরিচয় পান।

শাহাদাত মনোনেশ দাসের কাছে স্বীকার করেন যে, তিনি শাহাদাত হোসেন তার পিতার নাম আব্দুর রাজ্জাক। তিনি ভুইয়া বাজার সোনাগাজীর বাসিন্দা। মনোনেশ দাস তাৎক্ষণিক মুক্তাগাছা থানার ওসির মোবাইলে ফোন করে আসামি শাহাদাত হোসেন হোটেলে অবস্থান করছেন বলে জানান। পরে শাহাদাতকে গ্রেফতার করে প্রথমে মুক্তাগাছা থানা ও পরে ময়মনসিংহে নিয়ে যান ওসি।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নুসরাত জাহান রাফির শ্লীলতাহানি ও পুড়িয়ে হত্যা মামলার আসামি পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমকে ঢাকা থেকে এবং তার সহযোগী মো. জাবেদকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এছাড়া এ মামলার অন্যতম আসামি নূর উদ্দিনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ভালুকার সিডস্টোর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নুর এ মামলার দুই নম্বর আসামি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১২ জনকে আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। তার বান্ধবী নিশাতকে মাদ্রাসার ছাদে মারধর করা হচ্ছে বলে একজন এসে তাকে জানায়। এমন সংবাদে তিনি ছাদে যান। সেখানে বোরকা পরা চারজন তাকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে করা যৌন নিপীড়নের মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। এ সময় নুসরাত বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ব। এরপর তার হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষের অনুসারীরা।

১০৮ ঘণ্টা আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় মারা যান অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা নুসরাত। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুর আগে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। আর এই মামলায় আসামিদের আইনি সহায়তা দেন আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা বুলবুল।

এর আগে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজউদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন মেয়েটির মা। আর এ মামলা প্রত্যাহারের চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

You might also like

advertisement