রমজানের আগেই বেড়েছে গরুর মাংসের দাম

এম,লুৎফর রহমান,নরসিংদী প্রতিনিধিঃ

advertisement

নরসিংদী পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে এখন থেকেই গরুর মাংসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে গোশত ব্যবসায়ীরা। ৪৫০ টাকা কেজির গরুর মাংস এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত। প্রতি বছর রমজান মাস এবং রমজানের ঈদ এলেই ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাতে গরুর মাংসের দাম বাড়িয়ে দেয়।

আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে গোশত ব্যবসায়ীরা প্রতি বছরই মাংসের দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটে নিচ্ছে গোশত ব্যবসায়ীরা। এ বছরও এর কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে এক মাস পূর্ব থেকেই গরুর মাংসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে নরসিংদীর গোশত ব্যবসায়ীরা। ৪৫০ টাকা কেজির গরুর গোস্ত এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত। পবিত্র রমজান মাস এলে এক টুকরো গরুর মাংস দিয়ে ভোর রাতে সেহরি খেয়ে রোজা পালন করে আসছে বাঙালি মুসলমানরা।

যুগ যুগ ধরে বাঙালি মুসলমানদের ঘরে ঘরে গরুর মাংস তাই এতটা প্রিয়। একবার মাংসের দাম বাড়লে পরে আর কখনো দাম কমেছে বলে নজির পাওয়া যায়নি। এভাবে স্বাধীনতা-উত্তর কাল থেকে এই পর্যন্ত গরুর মাংসের মূল্য ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০০ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, পাকিস্তান শাসনামলের শেষ দিক এবং স্বাধীনতা-উত্তরকালের প্রথম দিকে তৎকালীন সময়ে ১ সের গরুর মাংস বিক্রি হতো মাত্র ৩০ টাকা দরে।

তখন শহরগুলো ছাড়া গ্রামের মানুষের কাছে গরুর মাংসের কোন বাজার মূল্য ছিল না। গ্রামের বাজারগুলোতে কসাইরা কোন গরু জবাই করতো না। গ্রামের মানুষেরা বাজার থেকে গরু কিনে সকল মাংস একত্রে মিশিয়ে টাকা দিয়ে বিক্রি করতো। এক ভাগ গরুর মাংস বিক্রি হতো ৫ টাকা করে। এভাবেই বাঙালি মুসলমানরা যুগ যুগ ধরে গরুর গোশত খেয়ে আসছে। এক সময় নরসিংদীর বিভিন্ন মিল ফ্যাক্টরি সামনের গরুর মাংস বিক্রি হতো। শ্রমিকরা আধা কেজি, আড়াইশো গ্রাম মাংস কিনে নিয়ে আলু পেঁপে দিয়ে ঝোল রান্না করে খেত।

অন্যান্য সাধারণ স্বল্প আয়ের মানুষও যেমন কৃষিজীবী, খেতমজুর, রিকশাচালক ভ্যান চালক এবং এ ধরনের সাধারণ মানুষেরা গরুর মাংস খাওয়ার সুযোগ পেত। কিন্তু সাধারণ এসব স্বল্প আয়ের মানুষের গরুর মাংস খাওয়ার এই স্বাচ্ছন্দের বিনাশ ঘটিয়েছে মাংস ব্যবসায়ী মুনাফাখোর সিন্ডিকেট ও ধনী শ্রেণীর লোকেরা । এই চড়া দামেই নিঃশব্দে ১০ কেজি ১৫ কেজি করে গরুর মাংস

কিনে নিয়ে যাচ্ছে। আর সাধারন স্বল্প-আয়ের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে গরুর গোশত’র স্বাদ থেকে। এই দুর্মূল্যের বাজারে সাধারণ মানুষ এখন গরুর গোশত খাওয়ার কথা চিন্তাই করতে পারছে না। গত ২ মাস আগেও নরসিংদী শহর এলাকার বাজারগুলোতে এক কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৪০০-৪৫০ টাকা। পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা হঠাৎ কেজি প্রতি গোশতের দাম বাড়িয়েছে ৫০-১০০ টাকা।

এভাবেই স্বাধীনতা উত্তরকালের ৪৭ বছরে গরুর মাংসের দাম কেজি বা সের প্রতি ৩০, ৪০, ৫০, ১০০ টাকা করে এখন ৫০০টাকায় দাঁড়িয়েছে। গরুর মাংসের এই মূল্য এখন সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। অর্থাৎ দেশের ৮০ ভাগ মানুষের পক্ষে গরুর গোশত কিনে খাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গরুর গোশত পরিণত হয়েছে এখন ভাগ্যবানদের খাবারে।

You might also like

advertisement