স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন দায় এড়াতে পারেনা

advertisement

স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন এবং মাদ্রাসার গভর্নিং বডি যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির নৃশংস হত্যাকাণ্ড এড়ানো যেত। এ ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবহেলা ও অপরাধ করেছেন।

জেলা প্রশাসনেরও অবহেলা ছিল। তারা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। এসব কর্মকর্তাদের অপরাধ ও অবহেলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার এই প্রতিবেদন সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। এদিকে গতকাল জান্নাতুল আফরোজ মনি নামে নুসরাতের আরেক সহপাঠীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেসটিগেশন।

তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। তিনি বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ড মানবতার ইতিহাসে জঘন্যতম অপরাধ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করে দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে সমাজ থেকে আমরা কেউই রক্ষা পাবো না। সমাজটা বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে পরিণত হবে। গতকাল কারওয়ান বাজারে কমিশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে তিনি এসব কথা বলেন।

নুসরাত হত্যার পর ১১ এপ্রিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশে পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) আল-মাহমুদ ফায়জুল কবীর এবং উপ-পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) এম রবিউল ইসলাম এ তদন্ত করেন।

প্রতিবেদনে সাত দফা সুপারিশ করা হয়। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, দ্রুত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন, মামলার দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া পুলিশ ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যারা দায়িত্বে অবহেলা ও অপরাধ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। মাদ্রাসার গভর্নিং বডি পুনর্গঠনেরও সুপারিশ করা হয়। এছাড়া নিহত নুসরাতের পরিবারের সব সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতেরও সুপারিশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর থানা পুলিশ নুসরাতকে বিভিন্ন অশালীন প্রশ্ন করে। তারা বিষয়টিতে হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা করে। পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাতের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এতে সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। এটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরিপন্থি।

নুসরাত হত্যায় আরেক মনি গ্রেফতার:আমাদের ফেনী প্রতিনিধি জানান, নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জান্নাতুল আফরোজ মনি নামে আরেক ছাত্রীকে পিবিআই গ্রেফতার করেছে। এর আগে সোমবার গ্রেফতার করা হয় কামরুন নাহার মনি নামে নুসরাতের আরেক সহপাঠীকে। পিবিআই জানিয়েছে, জান্নাতুল আফরোজ মনিকে মঙ্গলবার দুপুরে আলীম পরীক্ষা দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার সময় পিবিআইর গোয়েন্দারা আটক করেন। এদিকে গ্রেফতারকৃত উম্মে সুলতানা পপি ছদ্মনাম শম্পা বর্তমানে পিবিআইয়ের রিমান্ডে আছে। গত ২ দিনে ২ আসামিসহ মোট ১৪ জন এই হত্যা মামলায় গ্রেফতার হলো।

এদিকে মাদরাসা কমিটির সহ-সভাপতি ও আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি রুহুল আমিন ওরফে গুজা রুহুলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাযুক্ত পাসপোর্ট রয়েছে, সে যাতে আমেরিকায় পালিয়ে যেতে না পারে তাই তাকে পিবিআই গোয়েন্দারা কড়া নজরদারীতে রেখেছেন।

You might also like

advertisement