পবিত্র শবে বরাত আজ

advertisement

আজ রবিবার দিবসের আলোকরেখা পশ্চিমে মিলিয়ে যাবার পরই শুরু হবে মুসলমানদের পরম কাঙ্ক্ষিত মহিমাময় রজনী শবেবরাত। পাপ থেকে সর্বান্তকরণে ক্ষমা প্রার্থনা করে নিষ্কৃতি লাভের অপার সৌভাগ্যের রাত। একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বরাতের রাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নূরের তাজাল্লি পৃথিবীর নিকট আসমানে প্রকাশ পায়। তখন আল্লাহপাক বলতে থাকেন-আছে কি কেউ ক্ষমাপ্রার্থী? যাকে আমি ক্ষমা করব? আছে কি কেউ রিজিক প্রার্থী? যাকে আমি রিজিক প্রদান করব? আছে কি কেউ বিপদগ্রস্ত? যাকে আমি বিপদমুক্ত করব? আল্লাহ তায়ালার মহান দরবার থেকে এ আহ্বান অব্যাহত থাকে ফজর অবধি।

শবে বরাতকে ‘লাইলাতুল বারাআত’ নামে অভিহিত করা হয়। ‘শব’ শব্দটি ফারসি, অর্থ রাত। আর ‘বারায়াত’ শব্দের অর্থ হল- নাজাত, নিষ্কৃতি বা মুক্তি। শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হয়। শবেবরাত হলো আল্লাহ তায়ালার মহান দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ সময়। আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয় এই রাত। এ রাতে মুসলিম সমপ্রদায় নফল নামাজ আদায় ও কোরআন তিলাওয়াত, ইস্তেগফার, ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আসকার ও দোয়ায় মশগুল থাকেন।

যথাযথ মর্যাদায় ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে আজ সারাদেশে পবিত্র শবেবরাত পালন করা হবে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি পৃথক বাণী দিয়েছেন। শবেবরাত উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, জিকির-আজকারের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন আলোচনা এবং মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে আগামীকাল সোমবার সরকারি ছুটি। এ রাতের তাত্পর্য তুলে ধরে রেডিও-টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। সংবাদপত্র প্রকাশ করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র।

আলেমগণ মনে করেন, এশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করে সারারাত ইবাদত ও প্রার্থনায় কাটাতে পারলে তা-ই হবে এ রাতের সঠিক মূল্যায়ন। এই রাতে শুদ্ধ মনে তওবা করার পর নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়া এবং ইসলামী বিধান মেনে চলতে হবে। আর এ রাতে হালুয়া-রুটি, ফিন্নী-পায়েশ, খিচুড়ি, বিরিয়ানি প্রভৃতি বিতরণ বাধ্যতামূলক নয়। আলোকসজ্জা, হালুয়া-রুটি আর আতশবাজি এ রাতের পবিত্রতায় আঘাত হানে। কারণ উত্সব নয়, কেবল প্রার্থনার রাত শবেবরাত।

তবে ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর হিজরি ৪০০ বছরের মধ্যে শবেবরাত বলে কিছু ছিল না। শবেবরাত সর্বপ্রথম চালু হয় ৪৪৮ হিজরিতে বায়তুল মুকাদ্দাসে (মসজিদুল আকসায়)। সেই থেকে এটার প্রচলন কালের পরিক্রমায় ছড়িয়ে পড়ে।

You might also like

advertisement