সুদানে নির্বাচনের আগে ক্ষমতা ছাড়বেনা

advertisement

নির্বাচনের আগে বেসামরিক কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সুদানের মিলিটারি কাউন্সিল। ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্ট উমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এই কাউন্সিল এখন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সুদানের আন্দোলনকারী ও বিরোধী দলগুলো একটি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে এই ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে। মিলিটারি কাউন্সিল এই দাবি না মানায় এখন তাদের সঙ্গে চলমান সব আলোচনা বাতিল করেছেন তারা। মিলিটারি কাউন্সিলকে তারা বশির সরকারের ‘অবশিষ্টাংশ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

রাজধানী খার্তুমে হাজার বিক্ষোভকারী সেনা সদর দফতরের সামনে জড়ো হয়েছে। যেখানে তাদের একটি বেসামরিক কাউন্সিল ঘোষণা করার কথা। সেই কাউন্সিলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে তারা দেশটিতে অবস্থান নিয়েছে।

দেশটির সেনাবাহিনী বলছে তারা ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একটি সিভিল-মিলিটারি যৌথ কাউন্সিলের কথা বিবেচনা করতে রাজি আছে। এদিকে বিক্ষোভকারী আন্দোলনের একজন মুখপাত্র মোহামেদ আল-আমিন জানান, তারা মিলিটারি কাউন্সিলকে ‘বশির আমলের সম্প্রসারণ’ হিসেবেই দেখছেন। তাই বিক্ষোভের পরিমাণ আরও বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : বিশ্বকাপের জন্য টেন্ডুলকারের পরামর্শ চান পাকিস্তানের আবিদ এখনও বিপুল পরিমাণ মানুষ সেখানে উপস্থিত রয়েছেন এবং তারা শ্লোগান দিচ্ছেন। কিন্তু এ ধরনের বিক্ষোভকে কীভাবে আরও বড় আকারে রূপ দেয়া এবং দীর্ঘ মেয়াদে ধরে রাখা যায়; বিরোধীরা এখন সেই বিষয়টি ভাবছেন। একইসঙ্গে যদি শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বিক্ষোভকে দমাতে চায়, তখনকার করণীয় সম্পর্কে ভাবছেন।

আন্দোলনকারীদের গত রাতেই একটি বেসামরিক কাউন্সিলের সদস্যদের নাম ঘোষণা করার কথা ছিল। যারা একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার গঠনের ব্যবস্থা করবে। তবে গত রাতে তারা সেই কাজটি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এক্ষেত্রে অনেকে মনে করছেন, বিরোধীদের মধ্যে নীতি ও অবস্থানের ক্ষেত্রে মতানৈক্য তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় বিরোধীরা মিলিটারি কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে বড় বিক্ষোভের ঘোষণা এলো।

মিলিটারি কাউন্সিল ইতোমধ্যে দেশে কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থা ফেরাতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে তিন বিলিয়ন ডলার অর্থ পাওয়ার পর এখন বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে মিলিটারি কাউন্সিলের অস্বীকৃতিকে সন্দেহজনক হিসেবে দেখছে বিরোধীরা।

উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু করে। এই বিক্ষোভের মধ্যে গত ১১ এপ্রিল ওমর আল বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথা জানায় সেনাবাহিনী। বশিরের স্থলে মিলিটারি কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত দেশ পরিচালনার ঘোষণা দেয় তারা।

You might also like

advertisement