কুষ্টিয়ায় তামাক চাষী ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত

হাসিবুর রুবেল, কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ

advertisement

কুষ্টিয়ায় বিএটিবি কোম্পানীর ব্যাপক অনিয়মের কারণে তামাক চাষীরা বিপাকে পড়েছে। কোম্পানীর খেয়াল-খুশি মত দাম দেয়ায় চাষীরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তামাক মৌসুমের শুরুতে কোম্পানীর প্রতিনিধিরা চাষীদের উদ্বুদ্ধ করে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অধিক জমিতে তামাকের চাষ করায়।

এমনকি ম্যানেজার শামীম আল মামুন ভূইয়া কুষ্টিয়ায় বিজিবি সেক্টরের সামনে সংরক্ষিত এলাকায় তামাকের বীজতলা তৈরি করতে চাষীদের বাধ্য করে। চেঁচুয়া লীফ রিজিওনের তামাক ক্রয় কর্মকর্তা ও ম্যানেজার শামীম আল মামুন ভূইয়া, মাহাবুব রহমান, গোলাম রব্বানীসহ একাধিক ম্যানেজার তাদের খেয়াল খুশি মত মূল্যে তামাক ক্রয় করছে। এছাড়াও তামাকের আদ্রতা কম হওয়ার ভিত্তিহীন অভিযোগে চাষীদের তামাক ক্রয় না করে ফেরত দিচ্ছে।

ফলে একদিকে চাষীরা তামাকের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে হয়রানির ও তামাক বিক্রয় নিয়ে অজানা আতঙ্কে ভুগছে। বিএটিবির তাঁতিবন্ধ (এমএলডি) ক্রয় কেন্দ্রে তামাকের আদ্রতা নির্ণয়ের মেশিন বসিয়ে চাষীদের সাথে তামাশা শুরু করেছে। চাষীরা ন্যায্য মূল্য ও হয়রানি রোধের দাবী জানালে কোম্পানীর পক্ষ থেকে কোন প্রকার প্রতিকার পায়নি, বরং ক্রয় কর্মকর্তারা তাদের রেজিষ্ট্রেশন বাতিলের হুমকী দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কুষ্টিয়ার চেঁচুয়া রিজিওনে চলতি মৌসুমে ৩ বার শিলাবৃষ্টিতে তামাকের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। শিলাবৃষ্টিতে ভাঙ্গা তামাক কোম্পানী না নেয়াতে চাষীরা চরম অর্থনৈতিক ক্ষতি গুণতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চাষী জানান, আমরা তামাকের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। শুধুমাত্র বিএটিবি কোম্পনী ভাল তামাক নিয়ে অন্য তামাক ফেরৎ দিচ্ছে।

কোম্পানীর কাছে আমাদের আবেদন বিগত বছরের মত এবারও আমাদের তামাকগুলো নিয়ে নেয়া হোক। তামাক বিরোধী জোটের সদস্য সাফ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মীর আব্দুর রাজ্জাক জানান, কোম্পানীগুলো নীল চাষের মত তামাক চাষ করে চাষীদেরকে জিম্মি করে ফেলেছে। এ ব্যাপারে মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, চাষীরা তামাকের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।

প্রকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ তামাকগুলো ক্রয়সহ ক্ষতি পূরণের দাবী জানাচ্ছি। এছাড়া তামাক চাষের কারণে খাদ্য শস্য ঘাটতি ও এ অঞ্চলের মাটির উর্বতা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। তামাক পোড়ানোর কাজে জ্বালানী হিসেবে ব্যাপক হারে কাঠ ব্যবহারের ফলে বনজ সম্পদ বিনষ্ট ও প্রকৃতির পরিবেশ হুমকীর সম্মুখিন হচ্ছে। ভবিষ্যতে চাষীদের তামাকের বিকল্প ফসল আবাদের জন্য আহ্বান জানান।

মিরপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম মাসুদ রানা জানান, অধিক হারে তামাক চাষের কারণে মিরপুরসহ পাশ্ববর্তী দৌলতপুর ও ভেড়ামারা উপজেলা প্রতিবন্ধীর সংখ্যা দেশের অন্যান্য উপজেলার থেকে অনেক বেশি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার জানান, তামাক মৌসুমে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কম।

এ সময়ে শিশু শিক্ষার্থীরা ক্ষতিকারক তামাকের কাজ করায় শিক্ষা অর্জন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আব্দুস সালাম জানান, জাপান ট্যোবাকো মোটামুটি ন্যায্য মূল্য দিলেও বিশেষ করে বিএটিবি কোম্পানী ম্যানেজার শামীম আল মামুন ভূইয়া, চাষীদের ন্যায্য মূল্য দিচ্ছে না এবং হয়রানি করছে। যার কারণে আমার ইউনিয়নের চাষীরা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। তামাকের ন্যায্য মূল্য ও হয়রানিমুক্ত ক্রয়ের জন্য উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

You might also like

advertisement