ছোঁয়াচে রোগ ওয়ান টাইম

এম এ জলিল রানাঃ

advertisement

সু-স্বাস্থই সম্পদ, সু-স্বাস্থ্যই সকল সুখের মুল। এই পতিপাদ্য সামনে রেখে ছোঁয়াচে রোগ থেকে রক্ষা পেতে খাবার হোটেলে ওয়ানটাইম থালা বাটি ও গ্লাস ব্যবহার হোক। প্রতিনিয়ত দেশব্যাপি সকল শ্রেণী পেশার মানুষ তথা শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সু- স্বাস্থর কথা চিন্তা করে স্বাস্থ্য সম্মত ও মানসম্পন্ন খাবার নিশ্চিত করতে ভোক্তা অধিকার
সংরক্ষণসহ সচেতন সংগঠন ও ব্যাক্তিবর্গের উদ্যোগে সরকারীভাবে একদিকে যেমন অব্যাহত রয়েছে ভেজাল বিরোধী আন্দোলন।

তেমনি অন্যদিকে অব্যাহত রয়েছে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় ভেজাল বিরোধী অভিযান মোবাইল কোর্ট। খাদ্যে নানাভাবে ভেজাল, ফর্মালিন মেশানো হোটেল রেস্টুরেন্টে বাসি পঁচা খাবার পরিবেশনের অভিযোগে প্রতিদিন জেল জরিমানা ও হচ্ছে অনেকের। কিন্তু তাতে কি ভেজাল মেশানো বন্ধ হয়েছে? ১৭ কোটি মানুষের সু-স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হয়েছে? না বরং ফুটপাতের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে কম দামী খাবারের হোটেল এমনকি জেলা শহর থেকে শুরু করে দেশের প্রাণ কেন্দ্র রাজধানী ঢাকা শহরের পাঁচ তারা হোটেলে নামী দামী খাবারের মধ্য দিয়েও ছড়িয়ে পড়ছে কয়েকটি ছোঁয়াচে রোগ।

যার ফলে প্রতিনিয়তই ওই কয়েকটি ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত নানা বয়সের অসংখ্য মানুষ। একটি সু-উদ্যেগই পারে ওই ছোঁয়াচে রোগ থেকে বাঁচাতে। তাহলো ফুটপাতের চায়ের কাপ গ্লাস থেকে আরম্ভ করে নামী দামী হোটেলের থালাবাটি প্লেট গ্লাস পর্যন্ত সবখানে সু-স্বাস্থের কথা চিন্তা করে প্লাষ্টিকের ওয়ান টাইম থালা বাটি গ্লাস ব্যবহার করা জরুরী যা এখন সময়ের দাবী। কারন একই চায়ের কাপ পানির গ্লাসে রোজ রোজ হাজারও মানুষ চা,পানি পান করে থাকেন।

একি থালা বাটি আর প্লেটে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ সকালের নাস্তাসহ দুপুরের লান্স ও রাতের ডিনার পর্যন্ত সেরে ফেলেন। আর একই পাত্রে বার বার একাধিক লোকজন খাবারের কারনে ছোঁয়াচে যে রোগ গুলি ছড়িয়ে পড়ে তা হলো, ডাইরিয়া, ডিসেন্ট্রি,কৃমি ও হেপাটাইটিস। সরজমিনে ঘুড়ে রাজধানী ঢাকার অনেক নামিদামী খাবারের হোটেল রেষ্টুরেন্ট এবং উত্তর বঙ্গের বেশিরভাগ জেলা শহরের খাবারের হোটেল গুলোতে কোথাও এ ধরনের পদ্ধতি বা নিয়ম চালু হতে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে একজন প্লাষ্টিকের তৈরী ওয়ানটাইম থালা,বাটি, প্লেট ও গ্লাস ব্যবসায়ির সাথে কথা বলে জানা যায় যে, সবেমাত্র সনাতন বা হিন্দু ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের বিয়ে, বৌভাত বা কেউ মারা গেলে পরবর্তী খাবারের আয়োজনে বা শ্রদ্ধাতে এটি একটু হলে ও দেখা যায়। কারন সেখানে একই অনুষ্ঠানে বা খাবারের আয়োজনে মুসলমান ও হিন্দুসহ একই সাথে অনেক সম্প্রদায়ের লোকজন খায় বলে। তবে এ নিয়ম দেশব্যাপী চালু হলে উৎপাদন বেড়ে যাবে কারখানা গড়ে উঠবে বেকারদের কর্ম সংস্থান হবে ব্যবসায়ী হিসেবে আমরাও লাভবান হবো।

সব ধরনের খাবারের হোটেল রেষ্টুরেন্টএ অপরিস্কার অপরিচ্ছন্নতা কাটিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত ও উন্নত পরিবেশ ফিরে আসবে ফলে হোটেলমুখী সব মানুষগুলো উল্লেখিত রোগ থেকে নিরাপদে থাকবে। কারণ যে সমস্ত লোকের উল্লিখিত রোগ গুলি থাকবে তাদের ব্যবহৃত খাবারের থালা বাটি গ্লাস যারাই ব্যবহার করবে তাদের মাঝে এই রোগ গুলি ছড়িয়ে পরবে কারণ রোগ আপন-পর বুঝেনা।

বিষয়ে হোটেলে তিন বেলা খায় এমন হোটেল মুখী খদ্দেরের সাথে আলপকালে তারা জানান কি করবো বিকল্প কোন উপাই না থাকায় রোগ বালায়ের ঝুকি আছে জেনেও অ-স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খেতে হয়। এ বিষয়ে আলাপকালে একাধিক হোটেল মালিক বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, দেশব্যাপী এমন একটি মহতি উদ্যেগ সফল হলে, স্বাস্থ্য সেবার মান অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে আর জাতীয়ভাবে এ উদ্যেগটি গ্রহণ করা হলে দেশ ব্যাপী স্বাস্থ্য সেবার মানে নতুন মাত্রা যোগ করে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অনেকে ।

দেশব্যাপী সামগ্রীক মানুষের কল্যান ও সু-স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে লেখনের মাধ্যমে এমন একটি জাতীয় উদ্যেগকে স্বাগত জানিয়ে জয়পুরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ হাবিবুল আহসান তালূকদার এবং জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ এফ এম মুসা-আল মানছুর বলেন, একই থালা বাটি, প্লেট ও গ্লাসে অনেক লোকজন খাবার খেলে যে ছোঁয়াচে রোগ হয় তাহলো ডাইরিয়া,আমাশয়,কৃমি, ও হেপাটাইটিস।

ব্যতিক্রমি এমন একটি মহান ভিশনপূর্ণ হলে জাতীয় স্বাস্থ্য খাতে ডিপ্লোমেটিক পরিবর্তন আসবে হাইজেনিকভাবে এটি অত্যান্ত ভাল একটি উদ্যোগ, একদিকে ছোঁয়াচে রোগ থেকে রক্ষা পাবে, অন্যদিকে হেল্থ হেজার্ট হবে না। ফলে হোটেলমুখী খদ্দেরদের অর্থনৈতিক সাশ্রয় হবে। আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে ওয়ান টাইম ব্যবহার চালু রয়েছে।

You might also like

advertisement