রাজনগর দাদন ব্যবসায়ীর হাতে জিম্মি অসহায় মানুষ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ

advertisement

রাজনগর উপজেলার বিছনকৃতি গ্রামের দাদন (সুদ) ব্যবসায়ী ও ভূমি দস্যু চক্রের খপ্পরে পরে অসহায় নিরীহ মানুষ অনেকেই এখন বাড়ি ছাড়া। দু-একজন সাহসী মানুষ প্রতিবাদ করতে গিয়ে ভূমি দস্যু চক্রের হামলার স্বীকার হয়েছেন। এমনকি মামলায় তাদেরকে ফাসিঁয়ে দেওয়া হয়েছে। পঁচাশি বছর বয়সী বৃদ্ধ হাজী মোঃ জালাল উদ্দিন ও তার প্রতিবন্ধী ছেলে মোঃ আকরামুল আলী (৫০) তাদের হামলার হাত থেকে রক্ষা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।

বিছনকৃতি এলাকার নাম প্রকশে অনিচ্ছুক অনেকের অভিযোগ ওই গ্রামের মৃত ইসমাইল উদ্দিনের ছেলে ফখর উদ্দিন তার ভাই আব্দুল, খাক্কান ও ছেলে রোপক, সোপক ও চাচাত ভাই আঃ আহাদ এলাকার বিশিষ্ট দাদন ব্যবসায়ী ও ভূমি দস্যু। নিরীহ বিপদগ্রস্থ মানুষকে চড়া সুদে টাকা দেয়। সময়মতো টাকা পরিশোধ না করতে পারলে মানুষের জমিজামা দখল করে নেয়। এমনকি ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র জোরপূর্বক নিয়ে যায়। তাদের পিছনে একটি শক্তিশালী প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা করতে পারে না।

এলাকার বৃদ্ধ চলাচলে অক্ষম হাজী মোঃ জালাল উদ্দিন তাদের এ সমস্ত কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে ফখর উদ্দিন গং তাহার প্রায় ৪০ শতক জমি দখল করে নেয়। এমনকি বৃদ্ধ মোঃ হাজী জালাল উদ্দিন ও প্রতিবন্ধী ছেলে আকরামুল আলীকে মারধর করে আহত করে। তারা রাজনগর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে তাদের হুমকিতে চিকিৎসা নিতে পারেননি। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে তারা চিকিৎসা করান। প্রভাবশালী মহলের চাপে রাজনগর থানা তাদের মামলা রেকর্ড করেনি। উল্টো ফখর উদ্দিন বাদী হয়ে চলাচলে অক্ষম বৃদ্ধ হাজী মোঃ জালাল উদ্দিনকে মারামারি হুকুম দ্বায়ী আসামী করে থানায় মামলা করে। বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

জালাল উদ্দিন বাধ্য হয়ে মৌলভীবাজার আদালতে মামলা করেন। কিছু দিন পূর্বে পাঁচগাঁও ইউনিয়নের সুবিদপুর গ্রামের অসহায় নেভি বেগমকে (৪৫) ফখর উদ্দিন ২০ হাজার টাকা দাদন লাগায়। নেভি বেগম কয়েক মাসে ওই টাকার সুদ প্রায় ১৬হাজার টাকে দেন। বাকী টাকা পরিশোধ করতে না পারায় গত ১৫জানুয়ারী তার ঘরের আসবাবপত্র এই দাদন ব্যবসায়ী চক্র নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে রাজনগর থানায় একটি মামলা হয়। এলাকার রুমা বেগম, মোঃ মবশ্বির আলী, আলী হামজা, আঃ মুমিন, আতাউর রহমান ৫নং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য শামসুর রহমান জানান ফখর উদ্দিন গং এলাকার একজন নামকরা দাদন ব্যবসায়ী।

ওরা দাদন ব্যবসার টাকার জন্য মানুষের ঘরের আসবাবপত্র কেড়ে নেয়। এমনকি সুদে টাকা দেওয়ার সময় মানুষের জায়গা-জমির দলিলপত্র জামিন হিসেবে রাখে। পরবর্তীতে ওই জমিগুলা জুড়ে দখল করে নেয়। ওদের পিছনে একটা প্রভাবশালী মহল থাকার কারনে কেউ থানায় গিয়ে আইনের আশ্রয় নিতে পারে না। মনসুরনগর ইউনিয়নের জাউয়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাহবুবুর রহমান মিন্টু বলেন ফখর উদ্দিন গং এর অনেক অভিযোগের বিচার আমরা করেছি। কিন্তু ফখর উদ্দিন প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে সে যা খুশি তা করে যাচ্ছে। সে জালাল উদ্দিন পরিবারের জমি দখল করে নিয়েছে।

You might also like

advertisement